Header Ads Widget

Responsive Advertisement

গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ২ বছর পর ১০০ লাশ উদ্ধার, আরও ১,০৭২ জনের আশঙ্কা


জেইতুন এলাকায় স্বজনদের সামনে মরদেহ হস্তান্তর, আরও ১,০৭২ জনের মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনির মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় এসব মরদেহ স্বজনদের সামনে আনা হয়।

গাজার সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকর্মীরা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরাইলি হামলায় ধ্বংস হওয়া কয়েকটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এসব মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহগুলো গাজা সিটির ইমাম আল-শাফি মসজিদের কাছে রাখা হয়। সেখানে স্বজনেরা তাদের প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেখেন এবং দাফনের প্রস্তুতি নেন।

ধ্বংসস্তূপে এখনো হাজারের বেশি মরদেহ

উদ্ধারকাজ এখানেই শেষ হচ্ছে না। গাজার সিভিল ডিফেন্সের চলমান উদ্ধার প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে গাজা সিটি, উত্তর ও মধ্য গাজার ১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি ও স্থাপনা থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে।

উদ্ধারকারী সংস্থার ধারণা, এসব স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো প্রায় ১ হাজার ৭২টি মরদেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে।

প্রথম ধাপেও উদ্ধার হয়েছিল শত শত মরদেহ

এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া উদ্ধার প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৫৪টি ধ্বংস হওয়া বাড়ি ও স্থাপনা থেকে প্রায় ৩৩৩টি মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছিল।

তবে সীমিত উদ্ধার সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতির সংকটের কারণে কাজটি ধীরগতিতে এগোচ্ছে।

স্বজনদের সামনে শেষবারের মতো দেখা

দীর্ঘ সময় পর স্বজনদের কাছে প্রিয়জনদের মরদেহ ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহ চিত্র সামনে এনেছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষের মরদেহ থাকার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।

এক নজরে

  • উদ্ধার: প্রায় ১০০ মরদেহ ও দেহাবশেষ

  • সময়: দুই বছরেরও বেশি সময় পর

  • এলাকা: জেইতুন, গাজা সিটি

  • দ্বিতীয় ধাপে স্থাপনা: ১৪৭টি

  • আরও সম্ভাব্য মরদেহ: প্রায় ১,০৭২টি

  • প্রথম ধাপে উদ্ধার: প্রায় ৩৩৩টি মরদেহ ও দেহাবশেষ

  • প্রথম ধাপে স্থাপনা: ৫৪টি

উদ্ধারকাজে বড় বাধা সরঞ্জাম সংকট

গাজার সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকাজ সীমিত সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতির সংকটে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের নিচে থাকা মরদেহ উদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগছে।

সামনে আরও বড় উদ্ধার অভিযান

১৪৭টি ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনার ধ্বংসস্তূপে এখনও বিপুলসংখ্যক মরদেহ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজ যত এগোবে, গাজায় সংঘাতের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির আরও ভয়াবহ চিত্র সামনে আসতে পারে।

Post a Comment

0 Comments