Header Ads Widget

Responsive Advertisement

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ, মোদি-বিজেপিকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে নারীদের জন্য চালু করা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ ঘিরে ক্ষোভ ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে। প্রকল্পে আবেদন করেও অর্থ না পাওয়ার অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নারীরা বিক্ষোভ, অবস্থান ও সড়ক অবরোধ করেছেন। কোথাও বিডিও অফিস, কোথাও পুরসভা বা মহকুমা প্রশাসনের দপ্তরের সামনে জড়ো হয়েছেন আবেদনকারীরা।

অর্থপ্রাপ্তিতে বিলম্বের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি এখন শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক বিতর্কেরও কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিরোধীরা বিজেপি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যোগ্য কোনো নারীকে বঞ্চিত করা হবে না এবং যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ দেওয়া হবে।

জেলায় জেলায় বিক্ষোভ, কোথাও সড়ক-রেল অবরোধ

অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ না পাওয়ার অভিযোগে পুরুলিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনাসহ একাধিক এলাকায় বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

পুরুলিয়ায় বহু নারী পুরসভা কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। তাঁদের অভিযোগ, আবেদন করার পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হয়নি।

উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ ও বিরাটিতেও অর্থ না পাওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভের ঘটনা সামনে এসেছে। বিরাটিতে শতাধিক নারী রেললাইন অবরোধ করে প্রতিবাদ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুরে কয়েক মাস ধরে টাকা না পাওয়ার অভিযোগে পুরসভা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন নারীরা।

মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা, সাগরদিঘি ও ধুলিয়ানেও আবেদনকারী নারীদের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। কোথাও সরকারি দপ্তরে অবস্থান, কোথাও সড়ক অবরোধের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে।

‘আবেদন অনুমোদিত, তবু টাকা নেই’—অভিযোগ

বিক্ষোভকারীদের একাংশের দাবি, তাঁদের আবেদন অনুমোদিত হলেও অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা হয়নি। কেউ কেউ জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলে কখনো আবেদন প্রক্রিয়াধীন, আবার কখনো অতিরিক্ত যাচাইয়ের কথা বলা হচ্ছে।

কিছু এলাকায় আবেদনকারীরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত তালিকা যাচাই করে যোগ্যদের অর্থ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মোদি-বিজেপিকে ঘিরে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা

অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে বিক্ষোভের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিরোধীদের রাজনৈতিক সমালোচনাও জোরালো হয়েছে

বিরোধী দলগুলোর বক্তব্য, নির্বাচনের আগে নারীদের মাসিক ৩ হাজার রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক আবেদনকারী অর্থ পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবায়নের ব্যবধান নিয়ে সরকারের জবাব দেওয়া প্রয়োজন।

তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং বিক্ষোভকারীদের দাবির দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে।

‘ভোটের প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা’—বিতর্ক তুঙ্গে

অন্নপূর্ণা যোজনা ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপির অন্যতম আলোচিত প্রতিশ্রুতি ছিল। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের ফর্ম বিতরণ নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, প্রকল্পের প্রতিশ্রুতিকে কেন্দ্র করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সরকার গঠন করলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

বর্তমান বিক্ষোভের কারণে সেই পুরোনো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিই আবার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

শুভেন্দুর আশ্বাস—যোগ্য নারীরা পাবেন টাকা

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বলেছেন, যোগ্য নারীরা প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তিনি দাবি করেছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগছে এবং আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেছেন, সরকারের বয়স তখনও খুব বেশি হয়নি এবং যোগ্য আবেদনকারীদের বঞ্চিত করা হবে না। প্রয়োজন হলে আরও আবেদনকারীকে প্রকল্পের আওতায় আনার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

‘ভোট না দিলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নয়’—দাবি ঘিরে বিতর্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক প্রচারে “ভোট না দিলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নয়”—এমন বক্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর নামে প্রচারিত হচ্ছে। তবে এই নির্দিষ্ট বাক্যটি তাঁর যাচাইযোগ্য বক্তব্য হিসেবে নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

তাই বিষয়টিকে সরাসরি তাঁর বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপনের পরিবর্তে বলা যায়, অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থপ্রদান নিয়ে রাজনৈতিক প্রচার ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই ভোটের সঙ্গে সরকারি সুবিধা পাওয়ার সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সরকারের দাবি বনাম মাঠের অভিযোগ

সরকারি পক্ষের বক্তব্য, বিপুলসংখ্যক নারী ইতিমধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন এবং যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে যোগ্য আবেদনকারীদের অর্থ দেওয়া হবে। অন্যদিকে বিভিন্ন জেলার বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাঁরা আবেদন ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও এখনও অর্থ পাননি।

ফলে প্রকল্পটির যোগ্যতার শর্ত, আবেদন যাচাই, অর্থপ্রদানের সময়সীমা এবং বাদ পড়া আবেদনকারীদের কারণ—সবকিছু নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

সামনে কী?

জেলায় জেলায় বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় অন্নপূর্ণা যোজনার বাস্তবায়ন এখন রাজ্য সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। একদিকে সরকার যোগ্য নারীদের অর্থ দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছে, অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা দ্রুত অর্থপ্রদান ও আবেদন নিষ্পত্তির দাবি জানাচ্ছেন।

প্রকল্পটির বাকি আবেদনকারীদের কতজন অর্থ পাবেন, বাতিল হওয়া আবেদনের পুনর্বিবেচনা হবে কি না এবং চলমান বিক্ষোভ কীভাবে সামাল দেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তরেই এখন নজর রয়েছে।

Post a Comment

0 Comments