গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
স্বাস্থ্যসেবার মান ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, সরকারি হাসপাতালের সামনে নতুন করে কোনো বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হবে না। পাশাপাশি বর্তমানে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোও নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনা না করলে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সরকারি হাসপাতালের সামনে নতুন ক্লিনিকের অনুমোদন নয়
মঙ্গলবার সকালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের সামনে নতুন করে ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়ে সরকার একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে অতীতে অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও নজরদারির আওতায় আনার কথা জানান তিনি।
নিয়ম ভাঙলে বন্ধ হবে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানও
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু অনুমোদন থাকলেই কোনো ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার সুযোগ থাকবে না। যথাযথ নিয়ম ও মানদণ্ড অনুসরণ না করলে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
গজারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বড় ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী অক্টোবর থেকে হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শুরু হবে।
এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে আরও বেশি রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একসঙ্গে ১০ রোগীর ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা
হাসপাতালটিতে আগামী দুই বছরের মধ্যে একসঙ্গে ১০ জন রোগীর ডায়ালাইসিস দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।
এর পাশাপাশি আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেন্টার চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে নজরদারি বাড়ানোর বার্তা
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে নতুন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে বিদ্যমান ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রমে নিয়ম-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
একই সঙ্গে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিক ও বৃহৎ পরিসরের চিকিৎসাকেন্দ্রে উন্নীত করার পরিকল্পনাও সামনে এসেছে।

0 Comments