Header Ads Widget

Responsive Advertisement

চীনা এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন ‘নকল’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান বেইজিংয়ের


আন্তর্জাতিক ও প্রযুক্তি ডেস্ক | ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন প্রযুক্তি নকল করে নিজেদের এআই মডেল তৈরি করছে—ওয়াশিংটনের এমন অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং। চীনের দাবি, ‘ডিস্টিলেশন’ প্রযুক্তির ব্যবহারকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র যে অভিযোগ তুলেছে, তা মূলত চীনের দ্রুত বিকাশমান এআই শিল্পকে চাপে রাখার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ডিস্টিলেশন’ পদ্ধতির বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করে চীনের প্রযুক্তি খাতকে আক্রমণের চেষ্টা করছে। তিনি ওয়াশিংটনকে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে অবস্থান নেওয়ার এবং প্রযুক্তি ও বাণিজ্য ইস্যুতে পক্ষপাত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান।

চীনের দাবি, নিজস্ব সক্ষমতায় এগোচ্ছে এআই খাত

লিউ চ্যাং বলেন, চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতকে বাধাগ্রস্ত করার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রযুক্তি ও বাণিজ্যকে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করা।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, চীনের এআই শিল্প বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আত্মনির্ভরতার ওপর ভিত্তি করেই এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন প্রযুক্তি ‘নকল’ করে এগোচ্ছে—এমন অভিযোগকে বেইজিং ভিত্তিহীন বলে মনে করছে।

ছয় চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযোগ

এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন সরকার ছয়টি চীনা এআই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ডিস্টিলেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে মার্কিন এআই মডেলের সক্ষমতা নিজেদের প্রযুক্তিতে কাজে লাগানোর অভিযোগ তোলে। অভিযোগের তালিকায় চীনের ডিপসিক, মুনশট এআই ও আলিবাবাসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক, ওপেনএআই, গুগল ও স্পেসএক্সের তৈরি এআই মডেলগুলোর বিভিন্ন সংস্করণের আউটপুট ব্যবহার করে নিজেদের মডেলকে দ্রুত প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে বেইজিং তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং এগুলোকে চীনের এআই অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

কী এই ‘ডিস্টিলেশন’ পদ্ধতি?

এআই মডেল তৈরিতে ‘ডিস্টিলেশন’ একটি পরিচিত প্রশিক্ষণ কৌশল। এ পদ্ধতিতে তুলনামূলক বড় ও শক্তিশালী একটি মডেলের উৎপাদিত ফলাফল বা আউটপুট ব্যবহার করে ছোট ও কম ব্যয়বহুল একটি মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এর ফলে কম সময় ও তুলনামূলক কম খরচে একটি ছোট মডেলের কার্যক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। এআই শিল্পে এই প্রযুক্তিগত পদ্ধতির বৈধ ব্যবহার থাকলেও, অন্য প্রতিষ্ঠানের মডেলের সক্ষমতা বা আউটপুট কতটা এবং কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে—তা নিয়ে মেধাস্বত্ব ও প্রযুক্তিগত নৈতিকতার প্রশ্ন উঠতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, চীনা কিছু প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতিকে বৃহৎ পরিসরে ব্যবহার করেছে। তাদের দাবি, এর মাধ্যমে গবেষণা ও উন্নয়নের খরচ কমানোর পাশাপাশি মার্কিন এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা চীনা মডেলে কাজে লাগানো হয়েছে।

সামরিক ও সাইবার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

মার্কিন কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে চীনা সরকারের জ্ঞাতসারে কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে। তাদের আশঙ্কা, উন্নত এআই প্রযুক্তির এমন ব্যবহার ভবিষ্যতে চীনের সামরিক ও সাইবার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে, চীন এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এর আগেও একই ধরনের মার্কিন অভিযোগকে চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল।

এআই প্রযুক্তি নিয়ে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে দুই দেশের এই নতুন বিরোধ এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যে বেশ তীব্র।

এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে চলতি মাসের মাঝামাঝি দুই দেশের মধ্যে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের সম্ভাব্য প্রস্তুতিও চলছে।

ফলে এআই প্রযুক্তি নিয়ে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুধু প্রযুক্তিগত বিরোধেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তা দুই দেশের বৃহত্তর বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন প্রভাব ফেলবে—সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের।

Post a Comment

0 Comments