Header Ads Widget

Responsive Advertisement

শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আজ পঞ্চম সাক্ষ্য


জাতীয় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের মামলা

নারায়ণগঞ্জে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন চলাকালে ১০ জন নিহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে আজ পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার কথা রয়েছে

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মামলায় এরই মধ্যে চারজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন।

চার সাক্ষ্যের পর আজ পঞ্চম সাক্ষী

রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগুলোতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার ঘটনার বিবরণ উঠে আসছে।

সর্বশেষ ৩ সেপ্টেম্বর নিহত পোশাককর্মী রাসেল রানার বাবা পিন্টু রহমান ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। তিনি ছেলের মৃত্যুর ঘটনা তুলে ধরে হত্যার বিচার দাবি করেন। রাষ্ট্রপক্ষের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জে গুলিতে রাসেল নিহত হন।

এর আগে দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে যুবদল নেতা এনআরবি মামুন সাক্ষ্য দেন। তার বক্তব্যে চাষাঢ়া এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের বিভিন্ন তথ্য উঠে আসে।

মামলায় ১০ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ

মামলার নথি অনুযায়ী, তিনটি অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, ২১ জুলাই ও ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে চাষাঢ়া, ফতুল্লার সাইনবোর্ড ও আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল এবং ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জন নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অন্য দুটি অভিযোগে ২১ জুলাই ভূইগড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিব এবং ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসান নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে ভিডিও-অডিওসহ নথি

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, মামলার অভিযোগের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে ১৮টি ভিডিও ক্লিপ, অডিও এবং প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার দালিলিক নথি জমা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া তদন্তের অংশ হিসেবে ৬১ জন প্রত্যক্ষদর্শীর তালিকা দেওয়া হয়েছে। এসব সাক্ষ্য ও নথির মাধ্যমে ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা এবং আসামিদের কথিত সংশ্লিষ্টতা প্রমাণের চেষ্টা করছে প্রসিকিউশন।

কারা আসামি?

মামলায় মোট ১২ জন আসামি রয়েছেন। প্রধান আসামি শামীম ওসমান ছাড়াও রয়েছেন তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুকামরুল হাসান মুন্নাসহ আরও কয়েকজন।

পলাতক আসামিদের অনুপস্থিতিতেই বিচার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার ১২ আসামিই বর্তমানে পলাতক। তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে তিনজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।

এর আগে ১৯ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

কবে শুরু হয় বিচার?

১৩ মে ট্রাইব্যুনাল-১ প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগ গঠন করে ১২ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এরপর ১০ জুন থেকে মামলার আনুষ্ঠানিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, গুলি, হামলা ও নির্যাতনের ঘটনাগুলোর মধ্যে ১০টি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই বর্তমান মামলার তিনটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

এক নজরে

মামলা: মানবতাবিরোধী অপরাধ
আসামি: ১২ জন
প্রধান আসামি: শামীম ওসমান
অভিযোগ: ১০ হত্যাকাণ্ড
আজ: পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি
আদালত: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১
দাখিলকৃত ভিডিও: ১৮টি
দালিলিক নথি: প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠা
প্রত্যক্ষদর্শীর তালিকা: ৬১ জন

সামনে কী?

আজকের পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দির মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আরও এক ধাপ এগোবে। পরবর্তী সময়ে সাক্ষ্য, নথি ও অন্যান্য প্রমাণ বিচারিকভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত হবে। তবে আসামিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় হয়নি

Post a Comment

0 Comments