আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। দেশটির পারমাণবিক ইস্যু জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৩৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে একটি খসড়া প্রস্তাব আনার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর এই উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। প্রয়োজন হলে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইরান। ফলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে কূটনৈতিক চাপ নতুন মাত্রা পেতে পারে।
কেন আবারও ইরানকে নিয়ে উদ্বেগ?
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আইএইএর পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানান, সর্বশেষ প্রতিবেদনকালেও ইরান তার ঘোষিত পারমাণবিক উপকরণ ও স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়নি।
এর ফলে আইএইএর পরিদর্শকেরা গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় গিয়ে কার্যকরভাবে যাচাই করতে পারেননি।
গ্রোসি আরও জানান, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর দেশটির আগে ঘোষিত পারমাণবিক মজুত সম্পর্কে আইএইএর ‘ধারাবাহিক জ্ঞান’ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে নেই। এসব মজুতের মধ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদে পাঠাতে পশ্চিমাদের খসড়া
ইরানের পরমাণু ইস্যু প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর লক্ষ্যে খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি।
প্রস্তাবটিতে আইএইএর মহাপরিচালকের প্রতিবেদন, পরিচালনা পর্ষদের আগের সিদ্ধান্ত এবং সর্বশেষ প্রতিবেদন নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ইরানকে আইএইএর প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরিদর্শন-সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে খসড়াটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালনা পর্ষদে জমা হয়নি। ভাষা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং চলতি সপ্তাহে ভোট হতে পারে বলে কূটনীতিকদের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
পাল্টা অবস্থানে তেহরান
পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্যোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো অন্য জায়গায় নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে আবার আইএইএ ও এর মহাপরিচালকের দিকে ফিরছে।
তেহরানের দাবি, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণেই আইএইএর পরিদর্শন ও যাচাই কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাই এ পরিস্থিতির জন্য ইরানকে দায়ী করা যৌক্তিক নয় বলে দাবি করেছে দেশটি।
‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি
পশ্চিমা দেশগুলো প্রস্তাবটি এগিয়ে নিলে ইরান ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেবে বলে সতর্ক করেছেন বাঘাই।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং সামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত নয়। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও আন্তর্জাতিক পরিদর্শন নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদে গেলেই কি কঠোর ব্যবস্থা?
খসড়া প্রস্তাবটি আইএইএর পরিচালনা পর্ষদে অনুমোদিত হলেও এর অর্থ এই নয় যে ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কারণ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীনের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। ফলে ইস্যুটি নিরাপত্তা পরিষদে গেলেও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যেতে পারে।
এক নজরে
ইরানের পরমাণু ইস্যু নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর উদ্যোগ
উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি
আইএইএর পরিচালনা পর্ষদে খসড়া প্রস্তাব
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শন নিয়ে উদ্বেগ
৬০% পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে প্রশ্ন
চলতি সপ্তাহে ভোটের সম্ভাবনা
পশ্চিমাদের উদ্যোগে তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া-চীনের ভেটো বড়

0 Comments