Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ট্রাইব্যুনাল ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা, সন্দেহজনক গতিবিধিতে বাড়ছে নজরদারি


চিফ প্রসিকিউটরের সতর্কবার্তা—গুমের মামলার সাক্ষী ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তায় জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক | ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাকে ঘিরে নাশকতা বা অপতৎপরতার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মাদ আমিনুল ইসলাম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন আসামির সাম্প্রতিক গতিবিধি ও তৎপরতা সন্দেহজনক মনে হয়েছে। এ কারণে ট্রাইব্যুনালের ভেতরে-বাইরে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

‘যেকোনো সময় ছোবল’—কেন এমন সতর্কতা?

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গুমের ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হলেই কিছু ব্যক্তির তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। তাই বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সাক্ষী এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

তার আশঙ্কা, কিছু আসামির কাছে এমন তথ্য থাকতে পারে যার ভিত্তিতে তারা নাশকতা বা অন্য কোনো অপতৎপরতার চেষ্টা করতে পারেন। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২৫১টি গুমের ঘটনা নিয়ে তদন্ত

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশজুড়ে ২৫১ জনের গুমের ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের আওতায় নিয়ে তদন্ত চলছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্য ও জবানবন্দি গ্রহণ করা হচ্ছে।

চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো যেন কোনো ধরনের চাপ বা নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে না পড়ে, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।

ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা জোরদার

চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নজরদারির আওতায় রয়েছে। সম্ভাব্য অপতৎপরতা ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

বিশেষ করে গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত আসামিদের আদালতে আনা-নেওয়া এবং হাজতখানায় তাদের আচরণ নিয়েও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসামিদের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান মামলার কয়েকজন আসামির আদালতে উপস্থিতির সময়কার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারও কারও বিরুদ্ধে আদালত প্রাঙ্গণকে রাজনৈতিক বক্তব্য বা প্রচারণার জায়গা হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও এসেছে।

চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব বিষয়ও নিরাপত্তা ও বিচারপ্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিবেশের দিক থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

গুম ও হত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলাগুলোতে সাক্ষ্যগ্রহণ যত এগোচ্ছে, ততই সাক্ষী ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবমুক্ত রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের ওপর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটরের সতর্কবার্তার মূল বিষয় তাই শুধু ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা নয়; সাক্ষী, ভুক্তভোগী পরিবার এবং বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

Post a Comment

0 Comments