Header Ads Widget

Responsive Advertisement

নবীনগরে তিতাস পাড়ের অবৈধ বালু অপসারণ শুরু, শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাবে কি নদী?


ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তিতাস নদী অবৈধভাবে ভরাটের ঘটনায় প্রশাসনের দেওয়া ১৫ দিনের আল্টিমেটামের মেয়াদ শেষ হওয়ার দিনে অবশেষে নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে ফেলা বালু অপসারণ শুরু হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে তিতাস নদীর পাড়ে ফেলা বালু সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিনে এসে এই কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

২ লাখ টাকা জরিমানা, বালু সরাতে দেওয়া হয়েছিল ১৫ দিন

এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলাম তিতাস নদী অবৈধভাবে ভরাটের অভিযোগে আহমেদ গার্ডেন সিটির মালিক ফরিদ মিয়াকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

একই সঙ্গে নদী ভরাটে ব্যবহৃত বালু ১৫ দিনের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বালু সরানো না হলে তা সরকারি উদ্যোগে নিলামে তোলা হতে পারে।

শেষ দিনে শুরু হলো বালু অপসারণ

প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার দিনে সোমবার দুপুরে তিতাস নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, একটি ভেকু দিয়ে অবৈধভাবে ফেলা বালু সরানোর কাজ চলছে।

শেষ মুহূর্তে বালু অপসারণের এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা স্বাগত জানালেও সময়সীমার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

তাদের প্রশ্ন—১৫ দিনের সময় দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের শেষ পর্যায়ে এসে কেন বালু অপসারণ শুরু হলো?

নদীর ক্ষতি কি পুরোপুরি পোষাবে?

স্থানীয়দের আরও প্রশ্ন, নদীর পাড়ে দীর্ঘ সময় ধরে বালু ফেলে রাখার ফলে তিতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ বা নদীর পাড়ের পরিবেশে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা যথাযথভাবে যাচাই করা হবে কি না।

এ ছাড়া শুধু দৃশ্যমান বালু সরিয়ে নিলেই নদীর আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে আসা সম্ভব হবে কি না—সেটিও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

তাদের আশঙ্কা, আংশিকভাবে বালু অপসারণ করা হলে কিংবা নদীর ভেতর বা পাড়ে বালুর কোনো অংশ থেকে গেলে অবৈধ ভরাটের প্রভাব পুরোপুরি দূর নাও হতে পারে।

কঠোর নজরদারি চান স্থানীয়রা

নদী দখল ও অবৈধ ভরাটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান ও তদারকিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তবে তাদের দাবি, শুধু জরিমানা বা নির্দেশ দেওয়ার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে নির্ধারিত নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতে পুনরায় নদী ভরাট ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

নবীনগরের সচেতন নাগরিকদের মতে, তিতাস নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের ধারাবাহিক তৎপরতা প্রয়োজন।

এখন স্থানীয়দের অপেক্ষা—তিতাস নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে ফেলা সব বালু পুরোপুরি অপসারণ করা হয় কি না এবং নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও প্রবাহ রক্ষায় পরবর্তী সময়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।

Post a Comment

0 Comments