অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের পৃথক হামলার ঘটনায় গত ২৪ ঘণ্টায় চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাবলুস, কালকিলিয়া ও তুলকারেম গভর্নরেটের বিভিন্ন এলাকায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা এখন ১০০-তে পৌঁছেছে।
পশ্চিম তীরে নিয়মিত অভিযান, বাড়ছে উদ্বেগ
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর, গ্রাম ও শরণার্থীশিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান প্রায় প্রতিদিনই চলছে। একই সময়ে ফিলিস্তিনি বসতিগুলোতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম তীরের বেসামরিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার মাত্রা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনা হয়েছে।
আগস্ট পর্যন্ত নিহত ২৩, আহত সহস্রাধিক
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় আহত হয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ।
এ ধরনের সহিংসতা শুধু প্রাণহানি নয়, স্থানীয় ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবন, চলাচল ও নিরাপত্তার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
নাবলুসে সংঘর্ষে তরুণ নিহত
এর আগের সোমবারও পশ্চিম তীরে পৃথক দুটি ঘটনায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন।
নাবলুসের কাছে হাজ্জা গ্রামে বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ১৯ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হন। একই দিনে কুসরা এলাকার একটি বসতি সংলগ্ন স্থানে এক ইসরায়েলি কৃষক ছুরিকাহত হওয়ার ঘটনার পর ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আরেক ফিলিস্তিনি নিহত হন।
গাজা যুদ্ধের মধ্যেই পশ্চিম তীরে উত্তেজনা
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকার মধ্যেই পশ্চিম তীরেও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।
ফলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ধারাবাহিক প্রাণহানি ও সহিংসতার ঘটনায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং অঞ্চলটির সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

0 Comments