ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, প্রধান ফটকে অবস্থান
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, সদ্য অব্যাহতি পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে।
একই সঙ্গে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ঠেকাতে প্রধান ফটকে অবস্থান করছেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’সহ তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষকদেরও সংহতি
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে উপাচার্য নিয়োগ ও অব্যাহতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় উপাচার্য পদে বহালের দাবিও জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি।
সোমবার রাতেও বিক্ষোভ
উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে সোমবার রাতেও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্বাধীনতা চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়।
মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, ছাত্রী হল ও শিক্ষক আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে আন্দোলনকারীরা উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।
৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তন
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ জুলাই তিনি চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
একই প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চলবে
উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

0 Comments