Header Ads Widget

Responsive Advertisement

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে: আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বলছে নৌপথ উন্মুক্ত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথটি উন্মুক্ত রয়েছে। দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আইআরজিসির নৌবাহিনী টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে আগাম সমন্বয় ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। বাহিনীটির দাবি, জলপথটির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ‘সম্পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ’।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নৌপথ উন্মুক্ত

ইরানের দাবির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত রয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন বাহিনী আন্তর্জাতিক নৌপথ থেকে মাইন অপসারণ করেছে। ফলে ওই পথে জাহাজ চলাচলের সুযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন। তবে দুই দেশের দাবির কোনোটিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

কমেছে জাহাজ চলাচল

হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার প্রভাব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৯টি পণ্যবাহী জাহাজ এই জলপথ অতিক্রম করেছে।

যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার হিসাবে এই সংখ্যা ছিল প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি। অর্থাৎ বর্তমান পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি?

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এই জলপথ দিয়ে শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, এলএনজি, সার এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্যও পরিবহন করা হয়।

ফলে এই নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী কোনো অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতে নতুন উত্তেজনা

হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই।

তেহরান ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বিভিন্ন ছাড় আদায়ের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক শক্তির মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কী প্রভাব পড়তে পারে?

হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক জাহাজ মালিক ও জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে তেল ও এলএনজি পরিবহন ব্যাহত হলে সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যেও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরেনি। ফলে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির দিকে আন্তর্জাতিক বাজারের নজর রয়েছে।

এক নজরে

  • বিষয়: হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ

  • ইরানের দাবি: প্রণালির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে

  • যুক্তরাষ্ট্রের দাবি: আন্তর্জাতিক নৌপথ উন্মুক্ত

  • দৈনিক জাহাজ চলাচল: গত সাত দিনে গড়ে প্রায় ২৯টি

  • যুদ্ধের আগে: প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি

  • গুরুত্ব: তেল, এলএনজি ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ

  • বর্তমান অবস্থা: দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি; স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি অবস্থান শুধু আঞ্চলিক উত্তেজনা নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments