Header Ads Widget

Responsive Advertisement

হরমুজ প্রণালিতে আবারও তেল বোঝাই শুরু সৌদি আরামকোর



আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হরমুজ প্রণালির ভেতর থেকে আবারও অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলার কার্যক্রম শুরু করেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো। জাহাজ চলাচলের তথ্য ও বাণিজ্যিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। কয়েক সপ্তাহ বিরতির পর এই কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির ভেতরে সৌদি তেল টার্মিনালগুলো থেকে ট্যাংকারে অপরিশোধিত তেল তোলার কাজ আবার শুরু হয়। একই সময়ে আরও কয়েকটি ট্যাংকার তেল সংগ্রহের অপেক্ষায় রয়েছে।

এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে নতুন চালান

সৌদি আরামকো এশিয়ার বিভিন্ন পরিশোধনাগারের জন্য ‘আরব মিডিয়াম’ ও ‘আরব হেভি’ নামে পরিচিত দুই ধরনের অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূলের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের ব্যবস্থার মাধ্যমেও চালান সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ফুজাইরাহ গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল বাণিজ্য ও জ্বালানি অবকাঠামো কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে জাহাজ-থেকে-জাহাজ তেল স্থানান্তরের সুযোগ আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হামলার পর বন্ধ ছিল তেল বিক্রি

এর আগে হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরামকোর ট্যাংকার বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এর পর নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে কোম্পানিটি কয়েক সপ্তাহের জন্য ওই অঞ্চলের তেল বিক্রি ও সরবরাহ কার্যক্রম স্থগিত রেখেছিল। এখন আবার তেল বোঝাই শুরু হওয়াকে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের বড় একটি অংশ এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং মূল্য—তিন ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হতে পারে।

তিন ট্যাংকারে ৬০ লাখ ব্যারেল তেল

জাহাজ চলাচলের তথ্যের বরাতে জানা গেছে, ‘মালয়েশিয়া প্রসপারিটি’, ‘আলজেরিয়া প্রসপারিটি’ ও ‘সিঙ্গাপুর প্রসপারিটি’ নামের তিনটি অতিবৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ১২ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে সৌদি আরবের জুয়াইমাহ ও রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে তেল সংগ্রহ করেছে।

প্রতিটি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল তোলা হয়েছে। অর্থাৎ তিনটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ভারী অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বাড়তে পারে

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের তেল রপ্তানি পুনরায় সক্রিয় হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপেক্ষাকৃত ভারী অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

‘আরব হেভি’ ধরনের অপরিশোধিত তেল থেকে বিভিন্ন ধরনের অবশিষ্টাংশভিত্তিক জ্বালানি পাওয়া যায়। এসব পণ্য সামুদ্রিক পরিবহনে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি পরিশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পেট্রল ও ডিজেলের মতো জ্বালানি উৎপাদনেও কাজে লাগানো যায়।

নিরাপত্তাই এখন বড় বিষয়

তেল বোঝাইয়ের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলেও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। বড় তেলবাহী জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক রাখা না গেলে সরবরাহব্যবস্থায় আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে সৌদি আরামকো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলোর মালিক প্রতিষ্ঠান সিনোকোও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি তাই এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয়, এশিয়ার তেল আমদানিকারক দেশসহ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

Post a Comment

0 Comments