Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআইভিত্তিক ‘অটো ফাইন’, আইন ভাঙলেই যাবে এসএমএস



জাতীয় | ১৮ আগস্ট ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন শনাক্ত ও জরিমানা আদায়ের জন্য চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ‘অটো ফাইন সিস্টেম’। নতুন এই ব্যবস্থায় মহাসড়কের প্রায় ২৫০ কিলোমিটার এলাকায় স্থাপন করা ১ হাজার ৪২৭টি এআই ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের বিভিন্ন অনিয়ম নজরদারি করা হবে।

মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাট হাইওয়ে মনিটরিং সেন্টার থেকে নতুন ব্যবস্থাটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। হাইওয়ে পুলিশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশে ক্যামেরাগুলো বসানো হয়েছে। এতে বুলেট, পিটিজেড ডোম, লং ভিশন এবং এআই চেকপয়েন্ট ক্যামেরাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ক্যামেরা স্থাপনের জন্য মোট ৪৯০টি পোল বসানো হয়েছে।

নতুন সিস্টেমে কোনো গাড়ি অতিরিক্ত গতিতে চললে, অবৈধভাবে পার্ক করলে, বিপরীত দিক দিয়ে চলাচল করলে কিংবা অন্য কোনো নির্ধারিত ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে ক্যামেরার মাধ্যমে তা শনাক্ত হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য পাঠানো হবে।

জরিমানার অর্থ নির্ধারিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে আইন প্রয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় পুলিশের সঙ্গে চালক বা গাড়ির মালিকের সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজন কমে আসবে।

হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা ট্রাফিক আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কম হওয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগও কমবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

ক্যামেরাগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাটে একটি ডেটা সেন্টার এবং বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি মনিটরিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে মহাসড়কের ক্যামেরা নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ করা হবে।

হাইওয়ে পুলিশের ভাষ্য, মহাসড়কে শৃঙ্খলা বাড়ানো, ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা তৈরি এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পুলিশের দাবি, উপমহাদেশে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় প্রসিকিউশন ব্যবস্থা প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে চালু হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments