Header Ads Widget

Responsive Advertisement

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান মোজতবা খামেনির


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ মোকাবিলায় দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ‘সরকার সপ্তাহ’ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে দেশের নিজস্ব সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।

ডলারের নির্ভরতা কমানোর বার্তা

মোজতবা খামেনির বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ইরানের অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের ভূমিকা ধীরে ধীরে কমানো। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানির ক্ষেত্রেও আরও কৌশলী হতে হবে।

যেসব পণ্য দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদন করা সম্ভব নয়, সেগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী বিচক্ষণতার সঙ্গে আমদানির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এতে বৈদেশিক চাপের প্রভাব কমানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

‘প্রতিরোধী অর্থনীতি’কে গুরুত্ব

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ‘প্রতিরোধী অর্থনীতি’ নীতিকে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন খামেনি।

তিনি মনে করেন, ইরানের অর্থনীতিকে যতটা সম্ভব অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও নিজস্ব সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল করতে হবে। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও দেশের জনগণ নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যেই বার্তা

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপের মধ্যেই খামেনির এই বক্তব্য সামনে এলো।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ সত্ত্বেও ইরান জনগণের প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পুনর্গঠন এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় পদক্ষেপ নিয়েছে।

তরুণদের প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব

শুধু অর্থনৈতিক নীতি নয়, দেশের অগ্রগতির জন্য তরুণ মেধাবীদের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।

নতুন প্রযুক্তি সময়মতো গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত পদ্ধতি ও দীর্ঘদিনের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসাকে উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জাতীয় ঐক্যের ওপরও জোর

অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন খামেনি। তাঁর মতে, জনগণের মনোবল দুর্বল করে এমন হতাশাজনক বক্তব্য এবং সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ড দেশের জন্য ক্ষতিকর।

একই সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নৈতিক বিকাশকে সরকারি নীতিতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয় ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, চিকিৎসক ও নার্সদের প্রতিও বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন।

সামনে ইরানের অর্থনীতির লক্ষ্য কী?

মোজতবা খামেনির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ইরান দেশীয় উৎপাদন, আমদানি নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তি ও ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর দিকে আরও জোর দিতে চাইছে।

তবে এসব নীতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে এবং মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কতটা কমাতে পারবে, তা নির্ভর করবে সরকারের বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর।

এক নজরে

  • বক্তা: মোজতবা খামেনি

  • মূল বিষয়: ইরানের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা

  • প্রধান আহ্বান: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানো

  • অগ্রাধিকার: দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি

  • অর্থনৈতিক নীতি: ‘প্রতিরোধী অর্থনীতি’

  • অন্য গুরুত্ব: প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও জাতীয় ঐক্য

  • প্রেক্ষাপট: যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা

অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ইরানের নতুন বার্তা—বাইরের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন ও নিজস্ব সক্ষমতার ওপর দাঁড়াতে চায় তেহরান।

Post a Comment

0 Comments