ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সোমবার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ২৮ মিনিটে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৫৫ ডলার ছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১৪ সেন্ট কমে ৮২ দশমিক ২৬ ডলারে নেমে আসে।
এর আগে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং সৌদি আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি তেলের বাজারে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত কিংবা তেল অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির নিশ্চিত তথ্য না থাকায় তেলের দাম হঠাৎ বড় আকারে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত বলে মনে করছেন কিছু বাজার বিশ্লেষক।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বৃদ্ধিও দাম বাড়ার পথে কিছুটা চাপ তৈরি করছে। ফলে বর্তমানে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহ-ঝুঁকির বিপরীতে দুর্বল চাহিদার প্রভাব—দুই দিক থেকেই আন্তর্জাতিক তেলের বাজার প্রভাবিত হচ্ছে।
বিশ্ববাজারের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতির ওপর। এসব ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন হলে তেলের দামে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

0 Comments