দেশের অন্যতম বৃহৎ তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটি)-এর বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) নিরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির আয় ও ব্যয়ের হিসাব নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আয়ের তথ্য কম দেখানোর অভিযোগ
এলটিইউর নিরীক্ষা অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিএটি তাদের আয় প্রায় ২ হাজার ৭৩০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা দেখিয়েছিল। কিন্তু নিরীক্ষায় আয় প্রায় ২ হাজার ৯৪২ কোটি ৩১ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ প্রায় ২১১ কোটি টাকা আয় কম দেখানোর অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রযোজ্য কর ও সারচার্জ বিবেচনায় নিয়ে এ ব্যবধানের কারণে ১০০ কোটি টাকার বেশি করের বিষয় সামনে এসেছে বলে এলটিইউ-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
১৬টি বিষয়ে নিরীক্ষা
এলটিইউর নিরীক্ষায় মোট ১৬টি বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিগারেট উৎপাদন ও বিক্রয় থেকে আয়, কমিশন, বিতরণ, আইন ও সচিবালয়সংক্রান্ত ব্যয়, নিরাপত্তা, অডিট, গবেষণা ও উন্নয়ন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য খরচের হিসাব রয়েছে।
নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষের দাবি, বিভিন্ন খাতে তুলনামূলক বেশি ব্যয় দেখানোর ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মুনাফা কম দেখানো হয়েছে এবং এর প্রভাব পড়েছে সরকারের রাজস্ব আদায়ে।
ট্যাক্স স্ট্যাম্প নিয়েও প্রশ্ন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে সিগারেটের ট্যাক্স স্ট্যাম্পের অপচয় দেখিয়ে প্রায় ২৩ কোটি টাকা ভ্যাটের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে এনবিআর সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
বিএটির পক্ষ থেকে কারখানা স্থানান্তর ও শ্রমিক আন্দোলনের কারণে স্ট্যাম্প নষ্ট হওয়ার কথা বলা হলেও এনবিআর এ বিষয়ে আরও ব্যাখ্যা ও প্রমাণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।
বাজেটের আগে অতিরিক্ত সিগারেট মজুতের অভিযোগ
এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে বিপুল পরিমাণ সিগারেট পুরোনো হারে শুল্ক-কর পরিশোধ করে গুদামে মজুত রাখার অভিযোগও ওঠে। পরে সেগুলো নতুন দামে বিক্রির কারণে সরকারের রাজস্বে প্রায় ২১০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ঘাটতির হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।
এ বিষয়ে এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের বৃহৎ করদাতা ইউনিট প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রমিক আন্দোলনও আলোচনায়
রাজস্ব সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি বিএটির চুক্তিভিত্তিক ও মৌসুমি শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী করা, ঠিকাদারি ব্যবস্থা বাতিল, নিয়োগপত্র, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্যান্য সুবিধার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনের কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
২০২৬ সালের জুলাই-আগস্টেও বিভিন্ন অঞ্চলে শ্রমিকদের কর্মবিরতি, প্রতীকী অনশন ও মানববন্ধনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএটির বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিএটির ব্যবস্থাপনা বিভাগের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

0 Comments