Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল, মর্গেও জায়গা নেই; মৃত ৫৭৯


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হিমালয় থেকে নেমে আসা আকস্মিক বন্যা ও হড়পা বানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে নেপাল। একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় বিভিন্ন হাসপাতাল ও মর্গে আর জায়গা মিলছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষকে অস্থায়ী মৃতদেহ সংরক্ষণ কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিতে হচ্ছে।

নেপালের রসুয়া ও নুয়াকোটসহ দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে ভেসে আসা মৃতদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে ভাটির বিভিন্ন জেলাতেও। চিতওয়ান, তানাহুন, নাওয়ালপরাসি ও গোর্খাসহ কয়েকটি এলাকায় হাসপাতালের মর্গের ধারণক্ষমতা প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

মৃতের সংখ্যা ৫৭৯, নিখোঁজ ২ হাজারের বেশি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভয়াবহ এই বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে এখনো ২ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শতাধিক বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে ৫১৭ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক এখনো নিখোঁজ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মর্গে জায়গা না থাকায় অস্থায়ী কেন্দ্র

উদ্ধার করা মৃতদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নুয়াকোট, ধাদিং ও নাওয়ালপরাসির মর্গগুলোতে জায়গার সংকট তৈরি হয়েছে। কিছু মরদেহ পার্শ্ববর্তী জেলার হাসপাতাল ও সংরক্ষণকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।

চিতওয়ানের ভরতপুরে মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য অস্থায়ী কেন্দ্র তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পোখারার হাসপাতালগুলোর মর্গেও বিভিন্ন জেলা থেকে মরদেহ আসতে থাকায় ধারণক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

হিমবাহ ধস থেকেই ভয়াবহ হড়পা বান

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিমবাহ ধসের ফলে পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নদী ব্যবস্থায় নেমে আসে। এর ফলে ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়ে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করে এবং বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

বন্যার পানিতে ভেসে আসা কিছু মরদেহ নেপালের ভাটির এলাকাগুলো ছাড়িয়ে ভারতের দিকেও পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উজানে দুটি হ্রদ, ফের বন্যার আশঙ্কা

নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে দুর্যোগকবলিত এলাকার উজানে তৈরি হওয়া দুটি হ্রদ। কর্মকর্তারা সেগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি হ্রদ থেকে পানি বের হতে শুরু করলেও অন্যটি দ্রুত বড় হচ্ছে এবং সেখান থেকে পানি বের হওয়ার দৃশ্যমান পথ নেই। ফলে সেটি উপচে পড়লে আবারও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া বুধবারের হড়পা বান সৃষ্টিকারী হিমবাহের কাছাকাছি আরও দুটি হিমবাহ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট ছবিতে সেগুলোতে ফাটলের মতো কিছু চিহ্ন দেখা গেলেও, এগুলো নতুন ধসের নিশ্চিত পূর্বাভাস নয় বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

ভোতে কোশি নদীতে আবারও পানি বাড়ছে

নেপালের রসুয়া অঞ্চলের ভোতে কোশি নদীতে আবার পানির উচ্চতা বাড়ায় ভাটির এলাকার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদীতে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহের সঙ্গে পানির স্তর বাড়ায় নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

৯৩ হাজার মানুষের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন

রেড ক্রসের তথ্য অনুযায়ী, নেপাল ও তিব্বতের হিমালয় অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নেপালের রসুয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং এবং চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের জিরোং কাউন্টি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে।

রেড ক্রসের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নেপালে অন্তত ৯৩ হাজার মানুষের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন

স্বজনদের অপেক্ষায় হাসপাতালগুলোতে ভিড়

নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে নেপালের হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। কেউ নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরছেন, আবার কেউ এখনো আশায় আছেন—হয়তো নিখোঁজ মানুষটি কোনোভাবে ফিরে আসবেন।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে স্বজন হারানো পরিবারগুলোর পাশাপাশি উদ্ধার ও মরদেহ শনাক্তকরণ কার্যক্রমেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

এক নজরে

  • দেশ: নেপাল

  • দুর্যোগ: হড়পা বান, বন্যা ও হিমবাহ ধস

  • মৃত: ৫৭৯ জন

  • নিখোঁজ: ২ হাজারের বেশি

  • উদ্ধার: দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষ

  • ক্ষতিগ্রস্ত: অন্তত ৯৩ হাজার মানুষের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন

  • ঝুঁকি: উজানে তৈরি দুটি হ্রদ ও ভোতে কোশি নদীতে পানি বৃদ্ধি

  • প্রধান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিংসহ বিভিন্ন অঞ্চল

মৃতদেহ রাখার জায়গা নেই, নিখোঁজ হাজারো মানুষ—নেপালের ভয়াবহ বন্যা এখন শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং বড় ধরনের মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে।

Post a Comment

0 Comments