Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বাড়ছে উত্তেজনা- দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগত পাহাড় দখলে ইসরায়েলের প্রস্তুতি, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির অপেক্ষা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলি তাহের রিজ এলাকায় ইসরায়েল সম্ভাব্য সামরিক অভিযান ও অবস্থান শক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে—লেবাননের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। এতে ইসরায়েল–লেবানন সমঝোতা আরও চাপে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

লেবাননের সংবাদপত্র আল-জুমহুরিয়া-র এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। পাহাড়টি থেকে নাবাতিয়েহ সহ দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর অভিযোগ

লেবাননের নিদা আল-ওয়াতান–এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল ধীরে ধীরে আলি তাহের রিজ এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। সৈন্যদের ঝুঁকি কমাতে রোবোটিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতির কথাও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে এমন সামরিক তৎপরতার খবর দক্ষিণ লেবাননে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

ভূগর্ভস্থ স্থাপনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি

ইসরায়েলি পক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দাবিতে ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর টানেল ও সামরিক অবকাঠামো থাকার কথা বলা হয়েছে। এগুলোকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখিয়ে ইসরায়েল সামরিক পদক্ষেপের যুক্তি দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, লেবাননের সামরিক কর্মকর্তারা এলাকাটিকে হিজবুল্লাহর বড় কোনো কমান্ড সেন্টার হিসেবে উপস্থাপনের দাবিকে অতিরঞ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রও চাইছে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে

ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন সম্ভাব্য অভিযান পুরোপুরি ঠেকাতে না পারলেও সেটিকে সীমিত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো এবং বিদ্যমান সমঝোতা যাতে ভেঙে না পড়ে—এ বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্ব দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থায়ী উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী উপস্থিতি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির কথা উঠে এসেছে। মার্কিন অবস্থান অনুযায়ী, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

এ অবস্থায় ইসরায়েলের নতুন সামরিক অবস্থান তৈরির যেকোনো উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

কূটনীতি চলছে, মাঠে উত্তেজনাও বাড়ছে

একদিকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলার মধ্যেই সামরিক অবস্থান শক্ত করার উদ্যোগ পরিস্থিতিকে বিপরীত দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় নতুন কোনো অভিযান শুরু হলে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ইসরায়েলি পদক্ষেপই এখন বড় উদ্বেগ

বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ লেবাননের উত্তেজনা শুধু স্থানীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নেই। ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান, ভূখণ্ডে অবস্থান শক্ত করার উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির আশঙ্কাই পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।

কূটনৈতিক সমাধানের আলোচনা চলার সময় সামরিক চাপ বাড়ানো হলে তা বিদ্যমান সমঝোতাকে দুর্বল করতে পারে এবং নতুন সংঘাতের পথ তৈরি করতে পারে।

তবে আলি তাহের রিজে ইসরায়েলের সম্ভাব্য অভিযান এবং সেখানে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো সম্পর্কিত বিভিন্ন দাবি এখনো স্বাধীনভাবে পুরোপুরি যাচাই করা হয়নি। তাই এসব তথ্যকে সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও সংবাদমাধ্যমের দাবি হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।

Post a Comment

0 Comments