বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ১৭ আগস্ট একদিনেই দেশে এসেছে প্রায় ১ হাজার ২০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা সমপরিমাণ প্রবাসী আয়। ফলে আগস্টের প্রথমার্ধেই রেমিট্যান্স প্রবাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩২ শতাংশের বেশি
গত বছরের আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪২ কোটি ৪০ লাখ ডলার। চলতি বছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারে।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রথম ১৭ দিনে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৩২ দশমিক ৬০ শতাংশ। এতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
অর্থবছরের শুরুতেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা
শুধু আগস্ট নয়, নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেও রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ১ জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৪৭৪ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে, গত অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩৯০ কোটি ২০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে একই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ।
অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলতে পারে
রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রবাসী আয় বাড়লে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ শক্তিশালী হয় এবং প্রবাসী পরিবারের ভোগ ও বিনিয়োগ সক্ষমতাও বাড়তে পারে।
বিশেষ করে ঈদ, উৎসব বা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রবাসীরা দেশে বেশি অর্থ পাঠালে স্বল্পমেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহে বাড়তি গতি দেখা যায়। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুবিধা, দ্রুত লেনদেন এবং প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় প্রবাহ শক্তিশালী রয়েছে। আগস্টের প্রথম ১৭ দিনের প্রবৃদ্ধিও সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন।

0 Comments