Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ভারী বৃষ্টিতে আবারও পানির নিচে চট্টগ্রাম, বাড়ছে জনদুর্ভোগ



জাতীয় | ১৮ আগস্ট ২০২৬

ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে আবারও ব্যাপকভাবে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা। নগরীর নিম্নাঞ্চলের পাশাপাশি ব্যবসায়িক ও গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু এলাকাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।

আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রামসহ দেশের কয়েকটি অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে সমুদ্রের জোয়ারের পানি যুক্ত হওয়ায় নগরীর পানি নিষ্কাশন আরও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

নগরীর কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও ও মোহরাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পানির উচ্চতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। জিইসি, মুরাদপুর, ষোলশহর, জামালখান, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ও আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকাতেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

পানি ঢুকে পড়ায় অনেক বাসাবাড়ি, দোকানপাট, গুদাম, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্ভোগ দেখা দেয়। বৃষ্টির পানির সঙ্গে কাদা, বালু ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য মিশে যাওয়ায় পানি সরানোর পরও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বেড়ে যায়। একই সঙ্গে কৃষি ও মৎস্য খাতেও প্রভাব পড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রামে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার একাধিক বড় প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও নগরীর বড় একটি অংশে বারবার জলাবদ্ধতা ফিরে আসায় প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্পে মোট প্রায় ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশের কাজ শেষ হওয়ার দাবি থাকলেও ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের সময় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো পানি জমছে।

নগরীর জলাবদ্ধতার পেছনে খাল-নালা ও নর্দমায় প্লাস্টিক ও কঠিন বর্জ্য জমে থাকা, পাহাড় কাটা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতিকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে আবহাওয়া বিভাগের সতর্কতায় বলা হয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বিভাগে আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কার পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ফলে আগামী কয়েকদিনে বৃষ্টিপাত ও জোয়ার অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Post a Comment

0 Comments