তাইজ শহরে ৪০ থেকে মাত্র ১০টি ইনকিউবেটর চালু রাখার সক্ষমতা, অবরোধ ও সংঘাতে বিপর্যস্ত হাসপাতাল; খাদ্য ও চিকিৎসাসংকটে আরও বিপন্ন হাজারো মানুষ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন
ইয়েমেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত তাইজ শহরে জ্বালানি ও অক্সিজেনের তীব্র সংকটে নবজাতকদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় ইনকিউবেটর পরিচালনার সক্ষমতা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে অক্সিজেন, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট নবজাতকসহ গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত করছে।
রয়টার্সের ২৬ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইজের ইয়েমেনি-সুইডিশ হাসপাতাল ফর ম্যাটারনিটি অ্যান্ড চাইল্ডহুডে আগে ৪০টি ইনকিউবেটর চালানো গেলেও জ্বালানিসংকটে এখন মাত্র ১০টি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে। অর্থাৎ কার্যকর ইনকিউবেটরের সংখ্যা কমেছে ৭৫ শতাংশ। হাসপাতালের নবজাতক বিভাগে কর্মরত নার্সরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে চিকিৎসাসেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইনকিউবেটর সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে অপরিণত শিশুরা
ইনকিউবেটর এমন একটি বিশেষ চিকিৎসা সরঞ্জাম, যা অপরিণত বা অসুস্থ নবজাতকের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণে সহায়তা করে। অনেক ক্ষেত্রে নবজাতকের শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তা, অক্সিজেন সরবরাহ ও অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার ব্যবস্থাও একই ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
জন্মের সময় কোনো শিশুর ফুসফুস পুরোপুরি বিকশিত না হলে বা তার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে ধরে রাখার ক্ষমতা কম থাকলে নিবিড় পরিচর্যা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। এমন শিশুর ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা, অক্সিজেনের ঘাটতি কিংবা চিকিৎসা সরঞ্জাম বন্ধ হয়ে যাওয়া মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম নেওয়া একটি শিশুর শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। বিদ্যুৎ না থাকলে ইনকিউবেটরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হতে পারে; অক্সিজেনের সরবরাহ বন্ধ হলে শ্বাসকষ্টে থাকা শিশুর অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।
তাইজের হাসপাতালের সংকট তাই কেবল যন্ত্রপাতির ঘাটতি নয়; এটি এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ সরাসরি জীবন-মৃত্যুর প্রশ্নে পরিণত হচ্ছে।
জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় বিপর্যস্ত হাসপাতালের কার্যক্রম
রয়টার্সের প্রতিবেদনে হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের নার্স নাদা আহমেদের বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুদের উষ্ণ রাখা ও ইনকিউবেটর চালানোর জন্য জ্বালানি এবং অক্সিজেনের অভাব দেখা দিয়েছে। বিভাগটির সুপারভাইজার নাওয়াল নাজিবও সতর্ক করেছেন, জ্বালানি সরবরাহ না এলে হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হাসপাতাল পরিচালনায় জ্বালানির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অকার্যকর হলে জেনারেটর চালিয়ে জরুরি চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে হয়। কিন্তু জেনারেটরের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে শুধু ইনকিউবেটরই নয়, অস্ত্রোপচারকক্ষ, নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট, অক্সিজেন সরবরাহব্যবস্থা এবং পরীক্ষাগারের কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে।
সংকটের প্রভাব হাসপাতালের বাইরেও পড়ছে। জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে রোগীদের হাসপাতালে যাতায়াত, অ্যাম্বুলেন্সের খরচ এবং চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি পায়। ফলে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো যেমন কঠিন হয়, তেমনি হাসপাতালের পক্ষেও সীমিত সম্পদ দিয়ে বেশি রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অবরোধ ও সংঘাত কীভাবে মানবিক সংকট বাড়াচ্ছে
তাইজ দীর্ঘদিন ধরেই ইয়েমেনের সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ অক্টোবর থেকে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর শহরটির সরবরাহব্যবস্থা গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়েছে। সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি আন্দোলনের মধ্যে লড়াইয়ের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে চলাচল এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে তাইজ-আদেন করিডরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি, খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে হাসপাতালের সংকট আরও জটিল হয়ে ওঠে। জ্বালানি কিনতে অর্থ থাকলেও সরবরাহপথ বন্ধ থাকলে তা হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। একইভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার, ওষুধ বা চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত শেষ হয়ে গেলে বিকল্প সরবরাহ দ্রুত নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
সংঘাতের কারণে সাধারণ মানুষও নিরাপদ স্থানে যেতে কিংবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে বাধার মুখে পড়েন। ফলে হাসপাতালগুলো একদিকে নতুন রোগী ও আহতদের চাপ সামলায়, অন্যদিকে বিদ্যমান রোগীদের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের অভাবে পড়ে।
৪২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংকট, ঝুঁকিতে আরও রোগী
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমায়ারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তাইজ শহরের ৪২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জ্বালানি, অক্সিজেন, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
এর অর্থ, সংকট শুধু একটি হাসপাতালের নবজাতক বিভাগে সীমাবদ্ধ নয়। জরুরি অস্ত্রোপচার, দুর্ঘটনায় আহত রোগীর চিকিৎসা, নিবিড় পরিচর্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসাও এর ফলে ব্যাহত হতে পারে।
ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস, নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে চিকিৎসাধীন রোগী এবং ইনকিউবেটরে থাকা শিশুদের জন্য সরবরাহসংকটের কথাও উঠে এসেছে। এসব তথ্যের কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যা স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনের বক্তব্যের ওপর নির্ভরশীল; তাই সেগুলোকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা পরিসংখ্যান হিসেবে নয়, সংশ্লিষ্ট সংগঠনের দেওয়া তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনের সামগ্রিক চিত্র একটাই—তাইজে সংঘাত ও সরবরাহপথে বাধা স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে এমন অবস্থায় ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা চালু রাখাই কঠিন হয়ে উঠেছে।
খাদ্য সহায়তা ব্যাহত, বাড়ছে শিশুদের অপুষ্টি
চিকিৎসাসংকটের পাশাপাশি খাদ্য সহায়তা পৌঁছাতে না পারায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইজ ও আশপাশের এলাকায় ৮ লাখের বেশি মানুষ খাদ্য সহায়তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বলে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে।
ইউনিসেফের মুখপাত্র রিকার্ডো পিরেসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে তাইজে পরীক্ষা করা ১ লাখ ৬৮ হাজার শিশুর মধ্যে ৫২ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে; তাদের মধ্যে ১১ হাজার ৫০০-এর বেশি শিশুর অবস্থা গুরুতর।
অপুষ্টির শিকার শিশুরা সংক্রমণ, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য অসুস্থতার ঝুঁকিতে বেশি থাকে। তাদের চিকিৎসার জন্য পুষ্টিকর খাবার, ওষুধ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি থাকা জরুরি। কিন্তু সংঘাতের কারণে পরিবারগুলো চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারলে কিংবা চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ ব্যাহত হলে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নবজাতকের সংকট এবং শিশুদের অপুষ্টি আলাদা সমস্যা নয়। খাদ্যাভাব, মায়ের অপুষ্টি, প্রসবপূর্ব চিকিৎসার ঘাটতি এবং সংঘাতজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে মানবিক সহায়তা শুধু হাসপাতালকেন্দ্রিক হলে চলবে না; খাদ্য, পানি, পুষ্টি ও নিরাপদ যাতায়াতও নিশ্চিত করতে হবে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে চিকিৎসা আরও ব্যয়বহুল
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাইজে জ্বালানির দাম প্রতি লিটার ২ হাজার ইয়েমেনি রিয়াল পর্যন্ত বেড়েছে বলে স্থানীয় এক চালক জানিয়েছেন। এই মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন ও চিকিৎসাসেবার খরচকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি বিশেষভাবে কঠিন। আগে যে অর্থে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব ছিল, জ্বালানির দাম বাড়ার পর সেই একই যাত্রায় অনেক বেশি অর্থ ব্যয় হতে পারে। কিডনি রোগীদের মতো যাদের নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হয়, তাদের জন্য এই অতিরিক্ত খরচ দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
একইভাবে, হাসপাতালে জ্বালানি কিনতে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হলে ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই জ্বালানির সংকটকে শুধু পরিবহন সমস্যা হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়; এটি পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার আর্থিক ও পরিচালনাগত স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কেন এত ভঙ্গুর
ইয়েমেনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা বহু বছরের সংঘাত, অবকাঠামোগত ক্ষতি, অর্থসংকট এবং চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে চাপে রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, দেশটির স্বাস্থ্যসেবার ওপর নতুন করে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং আহত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত হলে তার প্রভাব একসঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়ে—প্রসবকালীন জরুরি সেবা, শিশুদের চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার, টিকাদান, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা সবই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এ ধরনের সংকটে হাসপাতাল চালু থাকলেও সব সেবা দেওয়ার সক্ষমতা থাকে না। একটি হাসপাতাল হয়তো জরুরি রোগী গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকলে সব ইনকিউবেটর চালাতে পারে না। আবার অক্সিজেন থাকলেও বিদ্যুৎ বা প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।
তাই স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সচল রাখতে শুধু ওষুধ পাঠানো যথেষ্ট নয়। জ্বালানি, অক্সিজেন, বিদ্যুৎ, পানি, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, নিরাপদ পরিবহন এবং সরবরাহপথ—সবকিছুর সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন।
নবজাতকদের রক্ষায় জরুরি কী
তাইজের পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, সংঘাতের সময় হাসপাতালের জন্য জ্বালানি ও অক্সিজেন কোনো সাধারণ পণ্য নয়; এগুলো জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার অপরিহার্য অংশ। বিশেষ করে নবজাতক ইউনিটে সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও গুরুতর পরিণতি তৈরি করতে পারে।
প্রথমত, মানবিক সহায়তার জন্য নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহপথ নিশ্চিত করা জরুরি। হাসপাতালের জ্বালানি, অক্সিজেন, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী যেন সংঘাতের কারণে আটকে না থাকে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, জরুরি জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রির মজুত বাড়ানো দরকার। তবে মজুত থাকলেই সমস্যার সমাধান হবে না—সেগুলো নিরাপদে সংরক্ষণ, সঠিকভাবে বিতরণ এবং সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থাও থাকতে হবে।
তৃতীয়ত, নবজাতক ও নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে। যেসব শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ বা অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল, তাদের চিকিৎসায় বিঘ্ন কমানোর জন্য হাসপাতালগুলোর জরুরি পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।
চতুর্থত, খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। অপুষ্টির শিকার শিশুদের চিকিৎসা, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের পুষ্টি এবং নিরাপদ পানি সরবরাহকে স্বাস্থ্যসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
পঞ্চমত, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কোন হাসপাতালে কতটি ইনকিউবেটর সচল আছে, কী পরিমাণ জ্বালানি দরকার এবং কতজন রোগী চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন—এসব তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা গেলে সহায়তা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বণ্টন করা সম্ভব হবে।
ইয়েমেনের তাইজ শহরে ইনকিউবেটর চালানোর সক্ষমতা ৪০ থেকে কমে ১০টিতে নেমে আসার ঘটনা যুদ্ধের মানবিক মূল্যকে স্পষ্ট করে তুলেছে। জ্বালানি ও অক্সিজেনের অভাবে নবজাতকের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়া শুধু হাসপাতালের সংকট নয়; এটি বেসামরিক মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যসেবার নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের বিষয়।
সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। এর সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় নবজাতক, শিশু, গর্ভবতী নারী, দীর্ঘমেয়াদি রোগী এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে।
তাইজের হাসপাতালগুলোকে সচল রাখতে দ্রুত জ্বালানি ও অক্সিজেন সরবরাহ, নিরাপদ মানবিক করিডর এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা জরুরি। কারণ নবজাতকের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা কোনো রাজনৈতিক পক্ষের বিষয় নয়—এটি মানবিক দায়িত্বের প্রশ্ন।

0 Comments