Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ঢাকা-চট্টগ্রামে জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়, বিদ্যুৎহীন বহু এলাকা


দুপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন; সচিবালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব, গ্রিড স্বাভাবিক করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ

জাতীয় ডেস্ক | নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ প্রবাহে বিপর্যয়ের কারণে আকস্মিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এতে রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের একাধিক এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা এবং চট্টগ্রামের কিছু অংশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দুপুরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ প্রবাহে বিঘ্ন ঘটার পর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে বিদ্যুৎ চলে যায়। ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও গ্রিডে বিপর্যয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাজধানীর মগবাজার, বনশ্রী, খিলগাঁওসহ পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ছাড়া সচিবালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়ে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের কিছু এলাকাও এ পরিস্থিতির আওতায় আসে।

তবে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারিগরি কারণ এবং সব এলাকায় সরবরাহ কখন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে—তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দুপুরে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাট

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ প্রবাহে বিঘ্ন ঘটার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিকভাবে বিদ্যুৎ চলে যায়। বিদ্যুৎ সরবরাহে এ ধরনের বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে একটি নির্দিষ্ট এলাকার পরিবর্তে একাধিক বিতরণ অঞ্চলে একই সময়ে প্রভাব পড়তে পারে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন উপকেন্দ্র ও সরবরাহ এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামের কিছু এলাকাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এ ঘটনায় বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিস ও অন্যান্য স্থাপনার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে লিফট, পানি তোলার পাম্প, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, কম্পিউটারনির্ভর কাজ এবং অনলাইন সেবায়ও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তবে কোন কোন এলাকায় কতক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল এবং কতসংখ্যক গ্রাহক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।

জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় হলে কেন একসঙ্গে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যায়?

জাতীয় গ্রিড হলো দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ উচ্চ ভোল্টেজের সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার সমন্বিত ব্যবস্থা। এরপর বিতরণ সংস্থাগুলো উপকেন্দ্র ও বিতরণ লাইনের মাধ্যমে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা, অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

গ্রিডের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অংশে কারিগরি ত্রুটি, সঞ্চালন লাইনের সমস্যা কিংবা বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে নিরাপত্তাব্যবস্থা বিদ্যুৎপ্রবাহ বন্ধ করে দিতে পারে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট উপকেন্দ্র বা অঞ্চলে সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। তবে মঙ্গলবারের ঘটনায় ঠিক কী কারণে বিপর্যয় ঘটেছে, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারিগরি তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন।

গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনজীবনে প্রভাব

বিদ্যুৎ সরবরাহে আকস্মিক বিঘ্ন ঘটলে সাধারণ গ্রাহকদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠানও চাপে পড়ে।

সরকারি অফিস: কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক, সার্ভার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকলে কিছু সেবা চালু রাখা সম্ভব।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় এটিএম, গ্রাহকসেবা, নেটওয়ার্ক ও ডিজিটাল লেনদেনের অবকাঠামোতে সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সব ব্যাংকিং সেবা বন্ধ হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই।

শিল্পকারখানা: উৎপাদনযন্ত্র বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। বিদ্যুৎ পুনরায় চালু করার পরও কিছু কারখানায় যন্ত্রপাতি ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক করতে সময় প্রয়োজন হতে পারে।

বাসাবাড়ি ও ছোট ব্যবসা: পানি সরবরাহ, লিফট, ফ্রিজ, ইন্টারনেট রাউটার এবং দোকানের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ক্ষুদ্র ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ে।

এসব সম্ভাব্য প্রভাবের প্রকৃত মাত্রা নির্ভর করে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের স্থায়িত্ব, বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনার ওপর।

বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কী প্রয়োজন?

জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের পর বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের জন্য সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা সঞ্চালনব্যবস্থার অবস্থা পরীক্ষা করেন, ত্রুটিপূর্ণ অংশ শনাক্ত করেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎপ্রবাহ স্বাভাবিক করেন।

এ ক্ষেত্রে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। কোথায় সঞ্চালন সমস্যা হয়েছে, কোন উপকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোন এলাকায় আগে সরবরাহ চালু করা সম্ভব—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পুনরুদ্ধারের কাজ পরিচালিত হতে পারে।

তবে মঙ্গলবারের বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে ঠিক কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, কোন এলাকায় কখন বিদ্যুৎ ফিরেছে এবং পূর্ণ সরবরাহ কখন স্বাভাবিক হয়েছে—এসব তথ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা সমীচীন নয়।

ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না এবং বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ কী ছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, কারিগরি পর্যালোচনা এবং বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের তথ্য থেকে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ প্রবাহে বিপর্যয়ের কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বিভিন্ন এলাকার স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে। বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ ও সরবরাহ পুনরুদ্ধারের পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন।

Post a Comment

0 Comments