Header Ads Widget

Responsive Advertisement

আমিরাতে বাংলাদেশিদের শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, চালক নিয়োগে গুরুত্ব


মাহ্‌দী আমিনের সঙ্গে আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক; দক্ষ কর্মী নিয়োগ, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা

জাতীয় ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। বিশেষ করে দেশটিতে বাংলাদেশিদের জন্য ট্যাক্সি ও ট্রাক চালকের পেশায় কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিনের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, দক্ষ শ্রমিক প্রেরণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে আমিরাতের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

ট্যাক্সি ও ট্রাক চালকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ট্যাক্সি চালক ও ট্রাক চালকের পেশায় কাজের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। পাশাপাশি দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের জন্য বিদেশে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে এ ধরনের পেশাভিত্তিক সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে বাস্তব কর্মসংস্থান তৈরি করতে নিয়োগকর্তার চাহিদা, পেশাগত যোগ্যতা, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা ও শ্রমবিধি পূরণ করতে হবে।

বিশেষ করে পেশাদার চালকদের ক্ষেত্রে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতার পাশাপাশি স্থানীয় ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জ্ঞান, নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের দক্ষতা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত থাকতে পারে।

তবে বৈঠকে আলোচনা হওয়া মানেই এসব পেশায় নিয়োগ শুরু হয়েছে বা নতুন ভিসা অনুমোদিত হয়েছে—এমন নয়। নিয়োগপ্রক্রিয়া, কর্মীসংখ্যা, বেতন, যোগ্যতা ও আবেদন শুরুর তারিখ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে কী প্রয়োজন?

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শুধু কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়। কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা এবং নির্দিষ্ট কাজের উপযোগী প্রশিক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাক্সি ও ট্রাক চালকদের ক্ষেত্রে নিয়োগের সম্ভাবনা বাড়াতে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে:

  • পেশাদার ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের শিক্ষা।

  • গন্তব্য দেশের লাইসেন্স ও পেশাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণে সহায়তা।

  • আরবি ও ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ।

  • নিয়োগকর্তা, বেতন, কর্মঘণ্টা ও চুক্তির শর্ত সম্পর্কে আগাম স্বচ্ছতা।

  • বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া, অভিবাসন ব্যয় এবং কর্মীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা।

এসব প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গেলে কর্মীদের কর্মস্থলে মানিয়ে নেওয়া সহজ হতে পারে এবং নিয়োগকর্তাদের কাছেও বাংলাদেশি জনশক্তির গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

বৈঠকে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের প্রসঙ্গও আলোচনায় উঠে আসে।

দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে আমিরাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং অবকাঠামো ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট বিনিয়োগ প্রকল্প, অর্থের পরিমাণ কিংবা বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

শ্রমবাজার সম্প্রসারণের ধারাবাহিক কূটনৈতিক উদ্যোগ

বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে শ্রমবাজার, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠকেও দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয় উঠে এসেছিল।

এ ছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে শ্রম ভিসা পুনরায় চালু করা এবং বাংলাদেশিদের যাতায়াতের সুযোগ সহজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল।

এসব বৈঠক থেকে বোঝা যায়, শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তবে ধারাবাহিক আলোচনা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্রম ভিসা উন্মুক্ত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। ভিসার বর্তমান অবস্থা, যোগ্যতার শর্ত এবং আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে কত দ্রুত আলোচনাকে বৈধ নিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নিরাপদ কর্মসংস্থানে রূপ দেওয়া যায় তার ওপর। তাই নতুন সুযোগের প্রত্যাশার পাশাপাশি সরকারি ঘোষণা ও যাচাইকৃত নিয়োগতথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই কর্মপ্রত্যাশীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Post a Comment

0 Comments