ক্রাইম ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার রেলবাগান প্রান্তিক পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০ পিস ইয়াবাসহ এক দম্পতিকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে মাদক উদ্ধারের পর আটক দুজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন রেলবাগান প্রান্তিক পাড়া এলাকার বাসিন্দা রুবেল (৪৪) ও তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগম (৪১)। তাঁরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন রেলবাগান প্রান্তিক পাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই দম্পতির কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের আটক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মামলার প্রস্তুতি, বাদী অধিদপ্তরের পরিদর্শক
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আটক দুজনের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের উদ্যোগ নেন। প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মামলাটি চূড়ান্তভাবে দায়ের হয়েছে কি না, উদ্ধার করা ইয়াবার উৎস কী এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলে এসব বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।
মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান বলেন, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধে অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
তিনি মাদক নির্মূলে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি মাদক ব্যবসা বা এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো তথ্য জানা থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রেলবাগান প্রান্তিক পাড়ায় ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় এক দম্পতিকে আটকের পর তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে উদ্ধার করা মাদকের উৎস, ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। মাদকবিরোধী কার্যক্রমের পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনের যথাযথ প্রয়োগই এ ধরনের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

0 Comments