Header Ads Widget

Responsive Advertisement

চুক্তির জন্য ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা কমাতে হবে: ভ্যান্স


আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ ও একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে দেশটিকে তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে হবে—এমন কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়; তেহরানকে পারমাণবিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

৬০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণ নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রশ্ন

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স প্রশ্ন তোলেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ইচ্ছা না থাকলে ইরানের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদনের প্রয়োজন কেন। তাঁর বক্তব্যের মূল অবস্থান হলো—ইরানকে যদি সত্যিই অস্ত্র তৈরির লক্ষ্য না থাকার প্রমাণ দিতে হয়, তাহলে উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমানো বা বন্ধ করার মতো বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।

ওয়াশিংটন আলোচনার পথ খোলা রাখলেও শুধু মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে চুক্তি করতে রাজি নয় বলেও ভ্যান্সের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অর্থাৎ সম্ভাব্য সমঝোতার কেন্দ্রে থাকবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বাস্তব সীমাবদ্ধতা এবং তার আন্তর্জাতিক যাচাই।

কেন ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এত গুরুত্বপূর্ণ?

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা যত বাড়ে, তা পারমাণবিক জ্বালানি ও অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার আলোচনায় তত বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। ইরান অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তার পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা—IAEA—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ ও যাচাই নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের এক পর্যায়ে সংস্থাটি জানিয়েছিল, ইরানের কয়েকটি ঘোষিত পারমাণবিক স্থাপনায় পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকার না থাকায় দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত, অবস্থান ও সেন্ট্রিফিউজ সক্ষমতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ যাচাই ব্যাহত হয়েছে।

এই যাচাই-সংকটই সম্ভাব্য যেকোনো নতুন পারমাণবিক চুক্তিকে আরও জটিল করে তুলছে।

শুধু সক্ষমতা কমানো নয়, দরকার যাচাইযোগ্য ব্যবস্থা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন শুধু ‘ইরান কী প্রতিশ্রুতি দেবে’ তা নয়; বরং প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কীভাবে যাচাই করা হবে—সেটিও।

IAEA মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির বক্তব্য অনুযায়ী, একটি কার্যকর চুক্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ও সুরক্ষা-ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, পর্যাপ্ত যাচাই ছাড়া কোনো চুক্তি বাস্তবে টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ফলে সম্ভাব্য সমঝোতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা, সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এবং IAEA-এর পরিদর্শন—সবগুলো বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আলোচনার সঙ্গে যুদ্ধও বড় বাধা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যু এখন বৃহত্তর সামরিক ও কূটনৈতিক সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। তবে শর্ত ও অগ্রাধিকারের পার্থক্য এখনো বড় বাধা হয়ে আছে।

যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতায় দৃশ্যমান সীমাবদ্ধতা। অন্যদিকে তেহরানের অবস্থান হলো—নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলোও সমঝোতার অংশ হতে হবে। ফলে পারমাণবিক প্রশ্নটি এখন বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

বিশ্লেষণ: নতুন চুক্তি হলে কী হতে পারে?

সম্ভাব্য চুক্তির ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে—

প্রথমত, সমৃদ্ধকরণের সীমা: ইরান কত শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে এবং কোন মাত্রায় তা সীমাবদ্ধ থাকবে।

দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক নজরদারি: IAEA কতটা স্বাধীনভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও উপকরণ পরিদর্শন করতে পারবে।

তৃতীয়ত, বিনিময়ে সুবিধা: ইরান কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক সুবিধা বা নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাবে।

এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি না হলে যেকোনো চুক্তি দীর্ঘস্থায়ী করা কঠিন হতে পারে।

সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন

ভ্যান্সের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে ওয়াশিংটন এবার শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, পারমাণবিক সক্ষমতা কমানোর বাস্তব প্রমাণ চাইছে। অন্যদিকে ইরানের জন্য বড় প্রশ্ন হলো—এ ধরনের ছাড়ের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কাছ থেকে কী ধরনের নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে।

তাই নতুন চুক্তির সম্ভাবনা থাকলেও পথটি সহজ নয়। আলোচনার সাফল্য নির্ভর করবে পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা, আন্তর্জাতিক পরিদর্শন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তার মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতা তৈরির ওপর।

Post a Comment

0 Comments