ক্রাইম ডেস্ক
খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫৪ রাউন্ড গুলি ও একটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় গোলাম রসুল নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তিনি খুলনা সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও নিহত গোলাম রব্বানী টিপুর বড় ভাই।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর দৌলতপুর থানাধীন উত্তর দেয়ানা এলাকার একটি বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পুলিশি অভিযানের এ তথ্য উঠে এসেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি স্টিলের আলমারিতে রাখা গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে গোলাম রসুলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। উদ্ধার করা গুলি ও ধারালো ছুরিও জব্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কী কী উদ্ধার করেছে ডিবি?
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে মোট ১৫৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
১৪১ রাউন্ড .২২ বোরের গুলি
১৩ রাউন্ড শর্টগানের গুলি
১২ ইঞ্চি লম্বা একটি ধারালো ছুরি
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া জানিয়েছেন, উদ্ধার করা গুলিগুলো লাইসেন্সবহির্ভূত। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল বলে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়।
গুলি উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্রের লাইসেন্স, গোলাবারুদ রাখার বৈধ অনুমতি এবং উদ্ধার করা সামগ্রীর মালিকানা—এসব বিষয় তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে উদ্ধার করা গুলি কী উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোলাম রসুলের কাছে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি রয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় পুলিশ তাঁকে একটি আলমারি খুলতে বললে তিনি প্রথমে রাজি হননি বলে পুলিশের সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। পরে আলমারিটি খোলা হলে সেখান থেকে গুলি উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের পর তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। উদ্ধার করা গোলাবারুদ ও ছুরির বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, সামগ্রীর উৎস এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না—এসব বিষয় যাচাই করা তদন্তের অংশ হতে পারে।
কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোলাম রসুলের অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে গুলির বৈধতার পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে পুলিশি সূত্রের বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে। গুলিগুলো তাঁর নিহত ভাইয়ের রেখে যাওয়া বলেও তিনি দাবি করেছেন বলে একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। এসব বক্তব্য তদন্তাধীন বিষয়; সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রমাণ যাচাই ছাড়া এগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
কে এই গোলাম রসুল?
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গোলাম রসুল খুলনার খালিশপুর বঙ্গবাসী বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার শিক্ষক। তিনি সাবেক কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী টিপুর বড় ভাই।
গোলাম রব্বানী টিপু খুলনা সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি রাতে কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় গুলিতে নিহত হন তিনি। তাঁর হত্যাকাণ্ড সে সময় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।
তবে টিপুর হত্যাকাণ্ড এবং তাঁর ভাইয়ের বাড়ি থেকে গুলি উদ্ধারের ঘটনা—দুটিকে সরাসরি একই অপরাধের অংশ হিসেবে দেখার মতো কোনো নিশ্চিত তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। বর্তমান ঘটনায় উদ্ধার করা গোলাবারুদের উৎস ও মালিকানা নির্ধারণে তদন্তের ফলই হবে গুরুত্বপূর্ণ।
আইনগত ব্যবস্থা কী হতে পারে?
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা গুলিগুলো লাইসেন্সবহির্ভূত হওয়ায় গোলাম রসুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। তবে প্রতিবেদন তৈরির সময় মামলার চূড়ান্ত অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স, অনুমোদনের শর্ত, উদ্ধার করা সামগ্রীর প্রকৃতি এবং ঘটনার অন্যান্য প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তির কাছে অস্ত্রের লাইসেন্স থাকলেই সব ধরনের গোলাবারুদ রাখা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না; আবার অভিযোগ উঠলেই কাউকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত বলে গণ্য করা যায় না।
তদন্তে উদ্ধার করা গুলির ধরন, সম্ভাব্য ব্যবহার, সংরক্ষণের পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন যাচাই করা হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা প্রমাণ ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।
খুলনার দৌলতপুরে ডিবির অভিযানে ১৫৪ রাউন্ড গুলি ও একটি ধারালো ছুরি উদ্ধারের ঘটনায় গোলাম রসুলকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ গুলিগুলো লাইসেন্সবহির্ভূত বলে জানিয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়ার কথা জানিয়েছে।
এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উদ্ধার করা গোলাবারুদের উৎস, মালিকানা, বৈধ অনুমোদন এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা। তদন্তের ফল ও আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এ ঘটনার আইনগত পরিণতি নির্ধারিত হবে।

0 Comments