জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ধীরগতির প্রভাব এবার আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে মানুষের আয়, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রায়। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে দেশের জাতীয় দারিদ্র্যের হার বেড়ে আনুমানিক ২২ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২২ সালের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি। একই সময়ে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে থাকা কয়েকটি বড় ঝুঁকি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—দুর্বল ব্যাংকিং খাত, জ্বালানি সংকট, কম বিনিয়োগ, দুর্বল রাজস্ব আহরণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্থবিরতা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সীমিত কার্যকারিতা।
প্রবৃদ্ধি নেমেছে ৩.৪ শতাংশে
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও প্রবৃদ্ধি একই হারে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দ্রুত প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে বাংলাদেশ আপাতত নিম্ন প্রবৃদ্ধির একটি পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক দশক ধরে বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সেই তুলনায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশের প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির স্বাভাবিক গতির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
তবে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশ্বব্যাংক ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। এর জন্য জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং বিনিয়োগ পরিবেশে আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এক বছরে দরিদ্র হয়েছে আরও ২১ লাখ মানুষ
অর্থনৈতিক ধীরগতির সবচেয়ে বড় সামাজিক প্রভাব পড়েছে দারিদ্র্যের ওপর।
বিশ্বব্যাংকের মডেলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক ৩ ডলার দৈনিক দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে প্রায় ২১ লাখ মানুষ। জাতীয় দারিদ্র্যসীমার হিসাবেও পরিস্থিতি অবনতির দিকে। ২০২২ সালে জাতীয় দারিদ্র্যের হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ; ২০২৬ অর্থবছরে তা আনুমানিক ২২ দশমিক ৫ শতাংশে উঠেছে।
এর অর্থ হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার বিষয়টি কেবল সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকে সীমাবদ্ধ নেই; এর প্রভাব সরাসরি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের ওপর পড়ছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের মজুরি পণ্যের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়তে না পারায় একই আয় দিয়ে আগের তুলনায় কম পণ্য ও সেবা কেনা সম্ভব হচ্ছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি থমকে যাওয়ার প্রভাব
দারিদ্র্য বৃদ্ধির অন্যতম বড় কারণ হিসেবে কর্মসংস্থানের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে গেলে নতুন চাকরি তৈরি হওয়ার গতি কমে যায়। একই সঙ্গে শিল্প ও সেবা খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে দ্রুত আয়ের চাপের মুখে পড়ে।
বিশেষ করে নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, শিল্প ও সেবা খাতে কাজ হারানো অনেক নারী পরবর্তীতে শ্রমবাজার থেকেই বেরিয়ে গেছেন।
এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু বর্তমান আয় নয়, পরিবারের ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ উন্নয়নেও প্রভাব পড়তে পারে—কারণ আয় কমলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টিতে ব্যয় কমানোর প্রবণতা তৈরি হয়।
ব্যাংকিং খাতে বড় ঝুঁকি
বাংলাদেশের অর্থনীতির আরেকটি বড় দুর্বলতা ব্যাংকিং খাত।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালের জুনে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও এ হার ছিল ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ।
কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে ইসলামি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের অনুপাত ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতে উচ্চ খেলাপি ঋণের অর্থ হলো—ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যাওয়া, নতুন বিনিয়োগে অর্থায়নের বাধা এবং উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের খরচ ও ঝুঁকি বৃদ্ধি।
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগ কমেছে, শিল্পেও চাপ
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি বিনিয়োগ। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ ০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং সরকারি বিনিয়োগ ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সময়ে পণ্য ও সেবার প্রকৃত রপ্তানি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে।
শিল্প খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিল্প প্রবৃদ্ধি প্রায় ২ শতাংশে নেমে আসে এবং শেষ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প উৎপাদন সংকুচিত হয়েছে—কোভিড-১৯ মহামারির পর এমন ঘটনা এই প্রথম বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারেনি। কিছু প্রতিষ্ঠান উৎপাদন সময় কমিয়েছে, আবার কোথাও উৎপাদন বন্ধ বা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে।
জ্বালানি সংকট কেন বড় বাধা
বাংলাদেশের শিল্প ও বিনিয়োগের জন্য জ্বালানি সরবরাহ এখন গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, দেশের মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এখন আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে।
গ্যাসের ঘাটতি শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি করছে। উৎপাদন ব্যাহত হলে ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বাড়ে এবং নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যেতে পারে।
রাজস্ব আদায়েও দুর্বলতা
সরকারের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে রাজস্ব আহরণ বড় একটি সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রাজস্ব আদায় জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। নিম্ন রাজস্ব আহরণের কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় করার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে বাজেট ঘাটতিও বেড়েছে। ২০২৫ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ; ২০২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।
সরকারের ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নও উদ্বেগের বিষয়। প্রথম ১১ মাসে সরকারের মোট অর্থায়নের বড় অংশই ব্যাংকিং খাত থেকে এসেছে বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে। এর ফলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সামাজিক নিরাপত্তার অর্থ ঠিক মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি?
দারিদ্র্য বাড়ার সময়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে এ ক্ষেত্রেও বড় ধরনের লক্ষ্যভ্রষ্টতার কথা উঠে এসেছে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্ববর্তী দারিদ্র্য মূল্যায়নে দেখা গেছে, দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের মাত্র প্রায় অর্ধেক সামাজিক সহায়তা পায়; বিপরীতে তুলনামূলকভাবে সচ্ছল পরিবারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও সুবিধা পেয়ে থাকে।
সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক দরিদ্র মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ও ভর্তুকি আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করার ওপর জোর দিয়েছে।
অর্থাৎ শুধু বরাদ্দ বাড়ানো নয়—কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে, তারা কোথায়, কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন এবং কীভাবে দ্রুত তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো যায়—এগুলো নির্ভুলভাবে শনাক্ত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থনীতির সামনে স্বস্তির জায়গাও আছে
চিত্র পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। বৈদেশিক খাতে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতি বহিঃখাতকে কিছুটা সহায়তা করছে।
দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক অর্থনীতিও বাংলাদেশের তুলনায় শক্তিশালী গতিতে এগোচ্ছে। বিশ্বব্যাংক ২০২৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
ফলে আঞ্চলিক অর্থনীতির তুলনায় বাংলাদেশের বর্তমান নিম্ন প্রবৃদ্ধির কারণগুলোকে কেবল বৈশ্বিক পরিস্থিতি দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন; দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধানও জরুরি।
বিশ্লেষণ: দারিদ্র্য বাড়ার পেছনে আসলে কী?
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কয়েকটি সমস্যা একে অপরকে আরও তীব্র করছে।
প্রথমত, মূল্যস্ফীতি ও কম আয়। পণ্যের দাম বাড়লেও নিম্নআয়ের মানুষের প্রকৃত মজুরি একই গতিতে বাড়ছে না। ফলে পরিবারের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমছে।
দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগের স্থবিরতা। নতুন বিনিয়োগ কমলে নতুন কারখানা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগও কমে যায়।
তৃতীয়ত, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা। উচ্চ খেলাপি ঋণ ব্যাংকের মূলধন ও ঋণদানের সক্ষমতাকে দুর্বল করে। এতে উৎপাদনশীল উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
চতুর্থত, জ্বালানি সংকট। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিশ্চয়তা শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পঞ্চমত, রাজস্ব সংকট। সরকার যদি পর্যাপ্ত রাজস্ব সংগ্রহ করতে না পারে, তাহলে একই সঙ্গে দরিদ্রদের সামাজিক সুরক্ষা এবং অবকাঠামো ও মানবসম্পদে বিনিয়োগ—দুটিই চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এই কারণগুলো একসঙ্গে কাজ করায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি শেষ পর্যন্ত মানুষের আয় ও দারিদ্র্যের ওপর চাপ তৈরি করছে।
এখন করণীয় কী?
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের জন্য দ্রুত কয়েকটি ক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন—ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করা, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক করা।
বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের বিশ্লেষণে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—শুধু দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি দিয়ে দারিদ্র্য কমানো সম্ভব নয়; টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।
কারণ স্থায়ী আয় তৈরি না হলে একজন মানুষ সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থেকে যেতে পারেন। বিপরীতে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার অর্থায়ন এবং শিল্পখাতে বিনিয়োগ বাড়লে দারিদ্র্য থেকে বের হওয়ার পথ দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী হয়।
সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে যেখানে স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সংস্কার ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হলে ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু ব্যাংকিং খাত, রাজস্ব ব্যবস্থা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা না গেলে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারও ধীর হতে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই শুধু বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কত হবে—তা নয়। বরং সেই প্রবৃদ্ধি কতটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, মানুষের প্রকৃত আয় কতটা বাড়াবে এবং নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়া পরিবারগুলোকে কীভাবে আবার অর্থনীতির মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

0 Comments