Header Ads Widget

Responsive Advertisement

মেসির গোল-অ্যাসিস্টে বেনিনকে ৩-০, আর্জেন্টিনার জার্সিতে আবেগঘন বিদায়


খেলা ডেস্ক

আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমে নিজের বিদায়ী ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন লিওনেল মেসি। বুয়েন্স আয়ার্সের ঐতিহাসিক এস্তাদিও মনুমেন্তালে ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। বিদায়ী ম্যাচে মেসি করেছেন একটি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি গোল।

মেসির শেষ ম্যাচে গোলের সঙ্গে দুই অ্যাসিস্ট

ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি বদলে যায় দৃশ্যপট। ৪৮ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিকোলাস ওতামেন্দি আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। এরপর ৬১ মিনিটে মেসির পাস থেকেই দারুণ শটে দ্বিতীয় গোল করেন নিকো পাজ।

এরপর আসে অপেক্ষার সেই মুহূর্ত। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বেনিনের জালে বল পাঠান মেসি। এটিই জাতীয় দলের হয়ে তাঁর শেষ গোল—আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১২৬তম।

অর্থাৎ বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনার তিনটি গোলেই সরাসরি অবদান রাখেন মেসি—দুটি অ্যাসিস্ট এবং একটি গোল।

১০ নম্বর জার্সির শেষ অধ্যায়

ম্যাচ শুরুর আগেই বোঝা গিয়েছিল, এটি ছিল অন্যরকম এক রাত। মনুমেন্তালের গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। ম্যাচের ১০ মিনিটে মেসির জার্সি নম্বরের প্রতি সম্মান জানিয়ে খেলা থামিয়ে দেওয়া হয় এবং পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানায়। আতশবাজি, স্লোগান ও আবেগঘন পরিবেশে পরিণত হয় পুরো স্টেডিয়াম।

ম্যাচ শেষে সতীর্থ, প্রতিপক্ষ ও রেফারির কাছ থেকে আলিঙ্গন গ্রহণ করেন মেসি। এরপর স্টেডিয়ামের আকাশে ড্রোন শোয়ের মাধ্যমে উদযাপন করা হয় তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।

২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি

২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে অভিষেকের পর ২১ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশটির ফুটবলের সবচেয়ে বড় মুখ ছিলেন মেসি। শেষ ম্যাচের পর তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান দাঁড়িয়েছে ২০৮ ম্যাচ, ১২৬ গোল ও ৭০ অ্যাসিস্টে। তিনি আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ও সর্বোচ্চ গোলদাতা খেলোয়াড়।

জাতীয় দলের হয়ে তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয়। এর আগে ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের ফাইনালিসিমা জয়ের পথেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

যে বিদায় শুধু একটি ম্যাচ নয়

মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের গল্প ছিল সাফল্য ও হতাশার দীর্ঘ মিশ্রণ। একসময় জাতীয় দলের হয়ে বড় শিরোপা জিততে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা ও বিশ্বকাপ—একাধিক বড় শিরোপা এনে সেই গল্পকে পরিণত করেছেন পূর্ণাঙ্গ সাফল্যে।

২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন। যদিও ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়।

বিশ্লেষণ: মেসির পর আর্জেন্টিনার সামনে নতুন অধ্যায়

মেসির বিদায় শুধু একজন কিংবদন্তি ফুটবলারের জাতীয় দল ছাড়ার ঘটনা নয়; এটি আর্জেন্টিনা ফুটবলের একটি যুগের সমাপ্তি। দীর্ঘ সময় ধরে দলের আক্রমণ, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের দায়িত্বের বড় অংশ ছিল তাঁর ওপর।

বিদায়ী ম্যাচে নিকো পাজকে গোল করানোও প্রতীকীভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ এই খেলোয়াড়দের ওপরই এখন আর্জেন্টিনার ভবিষ্যৎ আক্রমণভাগের দায়িত্ব আরও বাড়বে। মেসির ১০ নম্বর জার্সির উত্তরসূরি কে হবেন, সেটিও আগামী দিনের অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন।

তবে মেসির জায়গা পূরণ করা কেবল একজন নতুন খেলোয়াড় খুঁজে পাওয়ার বিষয় নয়। তাঁর গোল, অ্যাসিস্ট, নেতৃত্ব, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এবং বড় মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতার সমন্বয় পাওয়া আর্জেন্টিনার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে।

শেষ কথা

বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ জয় দিয়ে আর্জেন্টিনা পেল আরেকটি জয়; আর মেসি পেলেন তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য প্রায় নিখুঁত বিদায়—এক গোল, দুই অ্যাসিস্ট এবং জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচে জয়।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির গল্প শেষ হলো স্কোরশিটে নিজের নাম লিখে। কিন্তু আকাশি-সাদা জার্সিতে তাঁর ২১ বছরের উত্তরাধিকার ফুটবল ইতিহাসে আরও বহু বছর আলোচিত থাকবে।

Post a Comment

0 Comments