Header Ads Widget

Responsive Advertisement

নিষ্ক্রিয় সদস্যদের ভোটাধিকার বন্ধ করল বিজিএমইএ


নতুন নিয়মে কারখানা, উৎপাদন বা রপ্তানি কার্যক্রমে সক্রিয় না থাকা সদস্যদের ভোটাধিকার থাকবে না; দ্বৈত সদস্যদের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি

বাণিজ্য ও অর্থনীতি ডেস্কঃ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)-এর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সংগঠনটির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিষ্ক্রিয়, কারখানাবিহীন এবং নির্দিষ্ট সেবা ও কার্যক্রমে নিয়মিত অংশ না নেওয়া সদস্যরা ভোটাধিকার হারাবেন।

শনিবার অনুষ্ঠিত বিজিএমইএর বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) সংঘবিধিতে নতুন ৫(গ) ধারা যুক্ত করার বিশেষ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মাধ্যমে ভোটার তালিকায় সদস্যদের যোগ্যতা নির্ধারণে আরও নির্দিষ্ট শর্ত যুক্ত হলো।

কারা ভোটাধিকার হারাবেন?

নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো সদস্য প্রতিষ্ঠানের বাস্তব ও বিদ্যমান কারখানা বা উৎপাদন স্থাপনা না থাকলে ভোট দেওয়ার যোগ্যতা হারাবেন।

এ ছাড়া কারখানায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকা, সক্রিয় উৎপাদন কার্যক্রম না চালানো কিংবা সরাসরি রপ্তানি, সাব-কন্ট্রাক্টিং বা প্রকৃত রপ্তানি কার্যক্রমে যুক্ত না থাকার বিষয়ও ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচিত হবে।

অর্থাৎ শুধু বিজিএমইএর সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকলেই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত হবে না; সদস্য প্রতিষ্ঠানকে বাস্তবে পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার প্রমাণ দিতে হবে।

বিজিএমইএর সেবা না নিলেও হারাতে হবে ভোটাধিকার

নতুন নিয়মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিজিএমইএর প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণের বিষয়টি।

কোনো প্রতিষ্ঠান উৎপাদন বা রপ্তানি কার্যক্রমে সক্রিয় থাকলেও যদি নিয়মিতভাবে বিজিএমইএর প্রয়োজনীয় সেবা, বিশেষ করে ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন (ইউডি) সুবিধা গ্রহণ না করে, সেক্ষেত্রেও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

বিজিএমইএর ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়মিত সদস্য ফি দিলেও সংগঠনের ইউডি সুবিধা ব্যবহার করে না। এতে সদস্যদের কার্যক্রম ও শিল্প খাতের তথ্য সংরক্ষণে জটিলতা তৈরি হয়।

দ্বৈত সদস্যপদেও আসছে কড়াকড়ি

বিজিএমইএ ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)—দুই সংগঠনের সদস্য এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বৈত সদস্যপদ থাকা কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বিজিএমইএর পরিবর্তে বিকেএমইএ থেকে প্রয়োজনীয় সেবা নেয়, তাহলে বিজিএমইএতে সদস্যপদ বজায় থাকলেও নির্বাচনে ভোটাধিকার হারাতে পারে।

বর্তমানে প্রায় ১৩৫টি দ্বৈত সদস্য প্রতিষ্ঠান এই পরিবর্তনের আওতায় পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর তথ্য থেকে জানা গেছে। তবে সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের মাধ্যমে রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারলে ভোটাধিকার ধরে রাখার সুযোগ পাবে।

কেন এই সিদ্ধান্ত?

বিজিএমইএর নেতৃত্বের বক্তব্য অনুযায়ী, সংগঠনের নির্বাচনে ভোটাধিকার এমন সদস্যদের হাতে থাকা উচিত যারা বাস্তবে তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এবং সংগঠনের কার্যক্রম ও সেবা ব্যবস্থার সঙ্গে নিয়মিত সম্পৃক্ত।

নতুন বিধানের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় বা বাস্তবে কার্যক্রম না থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, এই পরিবর্তন সংগঠনের সদস্য যাচাই, জবাবদিহি ও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা আরও কাঠামোবদ্ধ করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

ভোটার তালিকায় কী প্রভাব পড়তে পারে?

বিজিএমইএতে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক সদস্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নতুন শর্ত কার্যকর হলে ভোটার তালিকায় থাকা সদস্যদের একটি অংশের যোগ্যতা নতুন করে যাচাই করতে হবে।

বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের কারখানা বন্ধ, উৎপাদন স্থগিত, রপ্তানি কার্যক্রম নেই অথবা বিজিএমইএর নির্ধারিত সেবা নিয়মিত ব্যবহার করে না—তাদের ভোটাধিকার নিয়ে নতুন করে যাচাই-বাছাই হতে পারে।

এতে পরবর্তী নির্বাচনে ভোটার তালিকার আকার ও গঠনেও পরিবর্তন আসতে পারে।

Post a Comment

0 Comments