Header Ads Widget

Responsive Advertisement

কম সংক্রমণেও ডেঙ্গুতে নারীর মৃত্যু বেশি, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে পরিস্থিতি


চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ২১৮ মৃত্যু; আক্রান্তের সংখ্যা পুরুষের তুলনায় কম হলেও মৃতদের মধ্যে নারীর সংখ্যা বেশি

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ

বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। সরকারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় কম হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা বেশি।

শনিবারের তথ্য অনুযায়ী, দেশে নতুন করে ৮ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৮ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৪৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে চলতি বছরে মোট ডেঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭১ হাজার ৫৩৬ জন।

আক্রান্ত কম, মৃত্যুর সংখ্যা বেশি নারীর

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ২৬ হাজার ৭৭৯ জন নারী এবং ৪৪ হাজার ৫১৬ জন পুরুষ।

অর্থাৎ মোট আক্রান্তের হিসাবে নারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। কিন্তু মৃত্যুর পরিসংখ্যানে চিত্রটি ভিন্ন। চলতি বছরের মোট ২১৮ মৃত্যুর মধ্যে ১১৬ জন নারী এবং ১০২ জন পুরুষ।

সর্বশেষ ৮ মৃত্যুর মধ্যেও চারজন ছিলেন নারী। একই দিনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৪৩২ জনের মধ্যে নারী ছিলেন ৫৩৮ জন এবং পুরুষ ৮৯৪ জন।

কেন নারীর মৃত্যুহার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে?

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশারের মতে, অসুস্থ হলেও অনেক নারী সময়মতো চিকিৎসকের কাছে না যাওয়ার কারণে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছাতে পারেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।

তবে এই কারণগুলোকে নারীদের ডেঙ্গু মৃত্যুর একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ডেঙ্গুতে মৃত্যুঝুঁকি রোগীর শারীরিক অবস্থা, সতর্কসংকেত, চিকিৎসা পাওয়ার সময় এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর্যায়সহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে।

দেরিতে হাসপাতালে গেলে বাড়ে ঝুঁকি

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কোয়াজি আহমেদ জাকির জানিয়েছেন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগী গুরুতর অবস্থায় দেরিতে হাসপাতালে এলে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।

তাঁর মতে, অনেক রোগী উচ্চ জ্বরের ৮ থেকে ১০ দিন পর হাসপাতালে আসেন। তখন রোগীর অবস্থা ইতোমধ্যে সংকটাপন্ন হয়ে যেতে পারে। পর্যাপ্ত তরল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়াও পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে।

সেপ্টেম্বরে দ্রুত বেড়েছে মৃত্যু

চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বর মাসের পরিসংখ্যানও বিশেষভাবে নজরে এসেছে। শুধু সেপ্টেম্বরেই এখন পর্যন্ত ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ৪৩ জন।

অন্যদিকে, গত বছরের একই সময় পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল ১৮৮ জনের এবং হাসপাতালে ভর্তি ও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৬৯২ জন। অর্থাৎ চলতি বছর একই সময়ের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা ইতোমধ্যে বেশি।

অধিকাংশ রোগী সুস্থও হয়েছেন

ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যুর পাশাপাশি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ২৫১ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন।

Post a Comment

0 Comments