জাতীয় ডেস্ক
জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর পরও প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারের প্রায় ৯০ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
‘২০ টাকা বাড়ানোর পরও বড় ভর্তুকি আছে’
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জ্বালানি তেলের দাম ও সরকারের ভর্তুকি নিয়ে কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর পরও সরকারকে ডিজেলে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলে ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় ৯০ টাকা।
জাহেদ উর রহমান বলেন, জনগণের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কারণ সামনে জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির হতে পারে।
১০০ ডলারের ওপরে ক্রুড অয়েল
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সামান্য কমেছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, এই কমার প্রবণতা স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
তার বক্তব্য, গত দুই-তিন দিনে তেলের দাম কিছুটা কমলেও এখনো ক্রুড অয়েলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে। ফলে সাময়িকভাবে দাম কমলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি আবার পরিবর্তিত হতে পারে।
তিনি বলেন, কাগজে-কলমে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা কমলেও সামগ্রিক হিসাব বিবেচনায় সরকারের ভর্তুকির চাপ থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে উদ্বেগ
জ্বালানি তেলের বাজারের অস্থিরতার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের পাশাপাশি স্ট্রেইট অব হরমুজ ও বাব আল-মানদেব ঘিরে পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সৌদি আরবের তেল রপ্তানির সক্ষমতা এবং বিকল্প সরবরাহপথ নিয়েও তিনি কথা বলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে সংকট তৈরি হলে সৌদি আরব ইস্ট-টু-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল রপ্তানির চেষ্টা করতে পারে। তবে সেই অবকাঠামো ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
‘দু-একটি ককটেল ফুটিয়ে সংকট তৈরি করা যাবে না’
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ঢাকার কিছু এলাকায় দু-একটি ককটেল বিস্ফোরণ বা বাসে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলেও এর মাধ্যমে সরকারের মধ্যে বড় ধরনের সংকট তৈরি করা সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ প্রসঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের কথা বলছেন না; বরং সাম্প্রতিক কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরছেন।
‘রাজনৈতিক সংকট দেখছি না’
দেশে কোনো রাজনৈতিক সংকট দেখছেন না বলেও মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করবে—এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা উচিত।
তার বক্তব্যে একদিকে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও সরকারের ভর্তুকির চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে, অন্যদিকে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

0 Comments