Header Ads Widget

Responsive Advertisement

আরব সাগরে ভারতের যুদ্ধজাহজের সাথে সংঘর্ষের পরই একই স্থানে ১০ দিনের নৌ মহড়ায় পাকিস্তান


INS Kolkata–PNS Hunain সংঘর্ষের পর আইনি বিতর্ক; পাকিস্তানের EEZ-এ মহড়ার অধিকার, যুদ্ধজাহাজের নিরাপদ দূরত্ব ও আন্তর্জাতিক নৌ-আইনের বিধান নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারত ও পাকিস্তানের নৌবাহিনীর জাহাজের সংঘর্ষের পর আরব সাগরে সামরিক মহড়া এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তিনটি প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ—পাকিস্তানের Exclusive Economic Zone (EEZ)-এ নৌ মহড়া চালানোর আইনগত ভিত্তি কী, ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ সেখানে চলাচল করতে পারে কি না এবং দুই দেশের যুদ্ধজাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের দায় নির্ধারণে ১৯৯১ সালের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভূমিকা কতটা।

প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান SEASPARK-26 মহড়ার অংশ হিসেবে আরব সাগরে কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। ১৮ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর নির্দিষ্ট এলাকায় পাকিস্তানি নৌযানের surface ও subsurface live weapon firing-এর জন্য নেভিগেশন সতর্কতাও প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নোটিশে তিনটি নির্দিষ্ট এলাকার স্থানাঙ্ক দিয়ে অন্য জাহাজকে মহড়া এলাকা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর কয়েক দিন আগে, ১৫ সেপ্টেম্বর উত্তর আরব সাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ এবং পাকিস্তানি নৌযান PNS Hunain-এর মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। দুই দেশই পরস্পরকে দায়ী করেছে। পাকিস্তান বলেছে, ঘটনাটি তাদের EEZ-এর মধ্যে মহড়ার সময় ঘটে এবং ভারতীয় জাহাজ বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি ম্যানুভার করেছিল। ভারতীয় পক্ষের দাবি, তাদের যুদ্ধজাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়মিত নজরদারিতে ছিল এবং পাকিস্তানি জাহাজই বিপজ্জনকভাবে কাছে এসেছিল।

পাকিস্তানের EEZ-এ মহড়া—আন্তর্জাতিক আইনে কি তা নিষিদ্ধ?

এখানেই রয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন।

জাতিসংঘের UNCLOS অনুযায়ী, EEZ সর্বোচ্চ উপকূল থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। কিন্তু EEZ কোনো দেশের পূর্ণ সার্বভৌম ভূখণ্ড নয়। উপকূলীয় রাষ্ট্রের প্রধান অধিকার হলো সমুদ্রের জীবিত ও অজীব সম্পদ অনুসন্ধান, আহরণ ও ব্যবস্থাপনা এবং UNCLOS-এ নির্দিষ্ট কিছু এখতিয়ার। একই সঙ্গে অন্য রাষ্ট্রগুলোর নৌচলাচল ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিকভাবে বৈধ সমুদ্র ব্যবহারের স্বাধীনতাও বজায় থাকে।

অর্থাৎ “পাকিস্তানের EEZ” মানেই সেখানে অন্য দেশের যুদ্ধজাহাজ প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—এমন ধারণা সঠিক নয়। আবার বিপরীত দিক থেকেও বলা যায়, EEZ-কে এমন এলাকা হিসেবে দেখা যায় না যেখানে বিদেশি সামরিক কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব পরিস্থিতিতে বৈধ।

এই জায়গাতেই পরিস্থিতির নির্দিষ্ট তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

জাতিসংঘে ভারতের UNCLOS-সংক্রান্ত ঘোষণায় ভারত নিজেই উল্লেখ করেছে যে EEZ-এ উপকূলীয় রাষ্ট্রের অধিকার UNCLOS-এর Article 56-এ নির্দিষ্ট এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের নৌচলাচলের স্বাধীনতাও Article 58-এর অধীনে সুরক্ষিত। ভারতের ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে যে UNCLOS নিজে EEZ-এ সামরিক মহড়া নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা উপকূলীয় রাষ্ট্রকে দেয় না।

ফলে পাকিস্তান তার EEZ-এ মহড়া চালিয়েছে—শুধু এই তথ্য দিয়ে মহড়াটিকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলা যায় না।

লাইভ-ফায়ারিং নোটিশ কি পাকিস্তানের অবস্থানকে শক্তিশালী করে?

১৮–২৮ সেপ্টেম্বরের নেভিগেশন সতর্কতায় নির্দিষ্ট তিনটি এলাকা চিহ্নিত করে বলা হয়েছে যে পাকিস্তানি নৌযান সেখানে surface এবং subsurface live weapon firing করবে এবং mariners-কে exercise area থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।

এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ সামরিক মহড়ার সময় বেসামরিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগে থেকেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

অতএব, মহড়ার বৈধতা এবং মহড়ার নিরাপত্তা-ব্যবস্থা—দুটি আলাদা বিষয়। কোনো মহড়া বৈধ হলেও তা এমনভাবে পরিচালনা করা যাবে না যাতে অন্য জাহাজের নিরাপত্তা অযথা ঝুঁকির মুখে পড়ে।

তাহলে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে অভিযোগের আইনি ভিত্তি কোথায়?

পাকিস্তানের সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর তাদের নৌবাহিনী SEASPARK-26 মহড়া পরিচালনা করছিল এবং ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ বিপজ্জনকভাবে পাকিস্তানি জাহাজের কাছে এসে সংঘর্ষ ঘটায়। পাকিস্তান ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও ১৯৯১ সালের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ১৯৯১ সালের Agreement on Advance Notice on Military Exercises, ম্যানুভারস and Troop Movements

চুক্তিটির Article 10 অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের নৌযান ও সাবমেরিনকে একে অপরের ৩ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে না আসার কথা বলা হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

সুতরাং সংঘর্ষের ক্ষেত্রে শুধু “কে কার EEZ-এ ছিল”—এই একটি প্রশ্ন যথেষ্ট নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো:

কোন জাহাজ প্রথমে ৩ নটিক্যাল মাইলের নিরাপত্তা দূরত্ব ভেঙেছিল এবং সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য কে কী ধরনের ম্যানুভার করেছিল?

এই প্রশ্নের উত্তর দিতে নিরপেক্ষ নেভিগেশনাল ডেটা প্রয়োজন।

পাকিস্তানের দাবি বনাম ভারতের দাবি

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য হলো, ভারতীয় নৌযান পাকিস্তানের EEZ-এ চলমান SEASPARK-26 মহড়ার সময় পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজের অত্যন্ত কাছে গিয়ে বিপজ্জনক ম্যানুভার করে এবং সংঘর্ষ ঘটায়। ইসলামাবাদ এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও ১৯৯১ সালের চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।

ভারতের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। ভারতীয় পক্ষের দাবি, তাদের যুদ্ধজাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় routine surveillance-এ ছিল এবং পাকিস্তানি নৌযান দ্রুতগতিতে কাছে এসে অনিরাপদভাবে ম্যানুভার করার কারণে সংঘর্ষ ঘটে।

অর্থাৎ ঘটনার মূল নেভিগেশনাল কারণ নিয়ে দুই দেশের বক্তব্য সরাসরি পরস্পরবিরোধী।

এ অবস্থায় কোনো পক্ষকে চূড়ান্তভাবে দায়ী বা নির্দোষ ঘোষণা করতে হলে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

তবে পাকিস্তানের EEZ-এ ভারতের যুদ্ধজাহাজ থাকলেই কি তা বেআইনি?

না—শুধু EEZ-এ অবস্থান করলেই তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হয়ে যায় না।

UNCLOS-এর Article 58 অনুযায়ী, EEZ-এ অন্য রাষ্ট্রগুলোর নৌচলাচলের স্বাধীনতা রয়েছে। ফলে কোনো দেশের EEZ-এ বিদেশি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নিজে থেকেই territorial waters-এ অনুপ্রবেশের সমতুল্য নয়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বিদেশি যুদ্ধজাহাজ যেকোনো ধরনের আচরণ করতে পারে। অন্য রাষ্ট্রের অধিকার ও উপকূলীয় রাষ্ট্রের অধিকার—দুই পক্ষকেই UNCLOS-এর অধীনে পরস্পরের প্রতি due regard রাখতে হয়।

অতএব মূল আইনি প্রশ্ন দাঁড়ায়:

ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ পাকিস্তানের EEZ-এ বৈধ navigation-এর অধিকার ব্যবহার করছিল, নাকি সেই navigation-এর সঙ্গে এমন সামরিক ম্যানুভার যুক্ত হয়েছিল যা পাকিস্তানের আইনগত অধিকার ও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে?

এই প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ্য তথ্য দিয়ে এখনো চূড়ান্তভাবে দেওয়া যাচ্ছে না।

পাকিস্তানের মহড়ার অবস্থান কতটা বৈধ?

প্রকাশ্য আন্তর্জাতিক আইনগত কাঠামো অনুযায়ী পাকিস্তানের অবস্থানের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি রয়েছে।

EEZ-এ উপকূলীয় রাষ্ট্রের অধিকার মূলত সম্পদ, পরিবেশ ও নির্দিষ্ট jurisdiction-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্য রাষ্ট্রের navigation rights-ও সেখানে স্বীকৃত। জাতিসংঘে ভারতের নিজস্ব UNCLOS ঘোষণাতেও বলা হয়েছে, Convention EEZ-এ military exercises নিষিদ্ধ করার জন্য coastal state-কে সাধারণ ক্ষমতা দেয় না।

সুতরাং পাকিস্তান তার EEZ-এ SEASPARK-26 পরিচালনা করেছে—এটিকে কেবল EEZ-এর অবস্থানের ভিত্তিতে অবৈধ বলা যায় না।

বরং বৈধতার মূল্যায়নে দেখতে হবে—

  • মহড়াটি নির্ধারিত ও ঘোষিত এলাকায় হয়েছিল কি না;

  • navigation warning যথাযথভাবে দেওয়া হয়েছিল কি না;

  • আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না;

  • অন্য জাহাজকে অযৌক্তিক ঝুঁকিতে ফেলা হয়েছিল কি না;

  • ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান চুক্তির নোটিশ ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধান মানা হয়েছিল কি না।

১৯৯১ সালের চুক্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এই চুক্তি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনকে প্রতিস্থাপন করে না; বরং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অতিরিক্ত একটি confidence-building এবং accident-prevention ব্যবস্থা তৈরি করে।

চুক্তিতে বড় ধরনের সামরিক মহড়ার জন্য আগাম তথ্য বিনিময়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। নৌ মহড়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ৩০ দিনের advance notice-এর বিধান রয়েছে, বিশেষ করে বড় আকারের নৌ মহড়া অন্য দেশের EEZ-এ প্রবেশ করলে।

অন্যদিকে Article 10-এর ৩ নটিক্যাল মাইলের বিধান সরাসরি নৌ-নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত।

তাই সংঘর্ষের ক্ষেত্রে UNCLOS + আন্তর্জাতিক collision rules + ১৯৯১ সালের দ্বিপক্ষীয় চুক্তি—তিনটি কাঠামোই একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

“পাকিস্তান নির্দোষ”—এখনই কি বলা যায়?

বর্তমান প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে আরও নির্ভুল ভাষা হবে:

পাকিস্তান নৌবাহিনীর দায় প্রমাণিত হয়নি, এবং একইভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীর দায়ও স্বাধীন তদন্ত ছাড়া চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়।

তবে পাকিস্তানের পক্ষে যে আইনি বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা যায়, সেগুলো হলো—

প্রথমত, পাকিস্তানের EEZ তার territorial sea নয়; কিন্তু সেখানে পাকিস্তানের স্বীকৃত অর্থনৈতিক ও নির্দিষ্ট jurisdictional অধিকার রয়েছে।

দ্বিতীয়ত, UNCLOS EEZ-এ সামরিক মহড়া সরাসরি নিষিদ্ধ করেনি—এমন অবস্থান ভারতের নিজস্ব UNCLOS ঘোষণাতেও প্রতিফলিত হয়েছে।

তৃতীয়ত, পাকিস্তান ১৮–২৮ সেপ্টেম্বরের লাইভ-ফায়ারিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট exercise area এবং navigation warning প্রকাশ করেছে।

চতুর্থত, ১৯৯১ সালের চুক্তি আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের যুদ্ধজাহাজের মধ্যে ৩ নটিক্যাল মাইল নিরাপত্তা দূরত্বের কথা বলে।

পঞ্চমত, সংঘর্ষের প্রকৃত দায় নির্ধারণের জন্য কোন জাহাজ কী course, speed ও ম্যানুভার নিয়েছিল—এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন

এই ঘটনায় তাই প্রশ্নটি শুধু “ভারতীয় জাহাজ পাকিস্তানের EEZ-এ কেন ছিল?”—এভাবে দেখলে পুরো আইনি চিত্র পাওয়া যাবে না।

আবার শুধু “EEZ-এ আন্তর্জাতিক navigation-এর অধিকার আছে” বলেও বিষয়টি শেষ করা যাবে না।

আসল প্রশ্ন হলো—

ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ কি বৈধ navigation-এর সীমার মধ্যে থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছিল, নাকি এমন ম্যানুভার করেছিল যা ১৯৯১ সালের Article 10 এবং সাধারণ নৌ-নিরাপত্তা বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক?

একইভাবে পাকিস্তানি নৌযানও সংঘর্ষ এড়াতে আন্তর্জাতিক collision-avoidance rules অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হওয়া উচিত।

উপসংহার

আরব সাগরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেবল ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক উত্তেজনার চোখে দেখলে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো আড়ালে থেকে যায়।

বর্তমান প্রকাশ্য তথ্য থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী আইনি পর্যবেক্ষণ হলো—পাকিস্তানের EEZ-এ SEASPARK-26 মহড়া পরিচালনা করাকে শুধু EEZ-এর অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বলা যায় না। একই সঙ্গে EEZ-এ অন্য রাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের navigation rights-ও UNCLOS স্বীকার করে।

তাই ১৫ সেপ্টেম্বরের সংঘর্ষে দায় নির্ধারণের মূল বিষয় হবে জাহাজ দুটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান, গতিবেগ, course পরিবর্তন, সতর্কবার্তা, ম্যানুভার এবং ৩ নটিক্যাল মাইল নিরাপত্তা বিধান

এই তথ্যগুলো প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত পাকিস্তান নৌবাহিনীকে “সম্পূর্ণ নির্দোষ” কিংবা ভারতীয় নৌবাহিনীকে “চূড়ান্তভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী” ঘোষণা করা আইনগতভাবে অতিরঞ্জিত হবে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—পাকিস্তানের EEZ-এ সামরিক মহড়া চালানোর বৈধতা এবং ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের সেখানে navigation—দুটি বিষয়কে আলাদা করে মূল্যায়ন করতে হবে। আর সংঘর্ষের দায় নির্ধারণে ১৯৯১ সালের দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তি ও আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা বিধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Post a Comment

0 Comments