সংস্কারকাজ থমকে থাকায় সড়কজুড়ে খানাখন্দ, বৃষ্টির পানিতে বেড়েছে ঝুঁকি; দ্রুত কাজ শেষের দাবি স্থানীয়দের
নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার মদন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ মদন-ফতেপুর সড়কের সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। সড়কের শক্ত ভিত্তি প্রস্তুতের পর কাজ থমকে যাওয়ায় এবং সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কারকাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রতিদিনই ভোগান্তির পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে।
সংস্কারকাজ শুরু হলেও থমকে গেছে
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ‘গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় মদন-ফতেপুর সিসি সড়কের মেরামতকাজ শুরু হয়।
প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৭২ লাখ ২৬ হাজার ৪৬ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের একটি কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড। ওই কাজটি ২০২৫ সালের ২৫ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
অন্যদিকে, ৩ কোটি ৫৭ হাজার ৬৪৩ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের আরেকটি কাজ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পায় বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এ কাজ ২০২৬ সালের ২৬ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশে বর্তমানে ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পাহাড়পুর ব্রিজে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত অনেক সময় চোখে দেখা যাচ্ছে না। ফলে অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, মালবাহী যানবাহনসহ বিভিন্ন যান চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে পাহাড়পুর ব্রিজ এলাকায় পরিস্থিতি আরও নাজুক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
সময় ও অর্থ—দুই-ই নষ্ট হচ্ছে
স্থানীয় বাসিন্দা সফিয়ন তালুকদার, হোসেন তালুকদার, মিনারুল ও শফিকুল চৌধুরী এবং মাওলানা সাইফুল ইসলাম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করেন।
তারা বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারাধীন থাকায় সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। খানাখন্দের কারণে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে, অতিরিক্ত সময় লাগছে এবং অনেক ক্ষেত্রে যাতায়াত ব্যয়ও বাড়ছে।
তারা দ্রুত সড়কের কাজ শেষ করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
দ্রুত কাজ শেষ করার আহ্বান চেয়ারম্যানের
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার শফি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। খানাখন্দের কারণে মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছে।
তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ শেষ করার আহ্বান জানান, যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমে আসে।
বিল না পাওয়ার কারণে কাজ বন্ধ: ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান
কাজ বন্ধ থাকার বিষয়ে ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের প্রতিনিধি তোফায়েল বলেন, তারা অনেক আগেই সড়কের কাজ শুরু করেছিলেন। তবে বিল না পাওয়ায় বাকি কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, বিল পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি কাজ শেষ করা হবে।
অন্যদিকে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের প্রতিনিধি আশরাফুল বলেন, বৃষ্টির কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করবেন তারা।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে চুক্তি বাতিলের হুঁশিয়ারি
মদন উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফ উল্লাহ খান বলেন, সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চলতি বছরের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হবে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—কবে শেষ হবে সড়কের কাজ?
সড়কটি মদন ও ফতেপুর এলাকার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় এর সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের প্রশ্ন, সংস্কারের জন্য বরাদ্দ ও প্রকল্প নেওয়ার পরও কেন দীর্ঘদিন ধরে কাজ অসম্পূর্ণ থাকবে? বর্ষার মধ্যে সড়কের খানাখন্দ আরও বাড়লে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগের দায় কে নেবে—এমন প্রশ্নও উঠেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সড়কের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করবে এবং নিরাপদ ও স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।

0 Comments