কুড়িগ্রামের চিলমারীতে আবারও ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পে ধস দেখা দিয়েছে। উপজেলার কাঁচকোল বাজারের পূর্ব পাশে এবং বাজারের দক্ষিণে কেডি ওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দুটি স্থানে প্রকল্পের জিও ব্যাগ সরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ব্লক পিচিংয়ের অংশ নদীগর্ভে দেবে যাচ্ছে।
এ ঘটনায় নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কাঁচকোল বাজার, বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
দুটি স্থানে ধসে পড়ছে জিও ব্যাগ ও ব্লক
সরেজমিনে দেখা যায়, কাঁচকোল বাজারের পূর্ব পাশে গাছের নিচের অংশে এবং বাজারের দক্ষিণে কেডি ওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের জিও ব্যাগ ও ব্লক পিচিংয়ের কিছু অংশ মাটি ভেঙে নদীর দিকে সরে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব স্থানে ভাঙনের আশঙ্কাও বাড়ছে। ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
৪৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প, তবু বারবার ধসের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালে সম্পন্ন হলেও এরপর বিভিন্ন সময়ে ব্লক ধসের ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, একাধিকবার মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
চলতি বর্ষাতেও একই ধরনের ধস দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে পুরোনো আতঙ্ক ফিরে এসেছে।
‘দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাজারও রক্ষা করা কঠিন’
কাঁচকোল বাজার এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কর বলেন, নদীভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত বাঁধের ব্যবস্থা না করা হলে কাঁচকোল বাজারও ভেঙে যেতে পারে।
আরেক বাসিন্দা কাইয়ুম মিয়ার ভাষ্য, দ্রুত বাঁধন বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাজার, বাড়িঘর ও গাছপালা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিউল মিয়া বলেন, দুপুরের দিকে গাছের নিচে ব্লক ভাঙতে দেখেছেন। তিনি দ্রুত বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নদীভাঙন তীব্র হলে মসজিদ, মাদ্রাসা ও স্কুলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
স্থায়ী সমাধানের দাবি এলাকাবাসীর
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এর আগে বিভিন্ন সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাদের দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে একই স্থানে বারবার ধস না নামে, সে জন্য টেকসই সমাধান করা প্রয়োজন।
তারা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
‘দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে’
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, চিলমারীর কাঁচকোল এলাকায় এর আগেও ডানতীর রক্ষা বাঁধে ধসের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে নতুন করে দেখা দেওয়া ধসকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

0 Comments