Header Ads Widget

Responsive Advertisement

পশ্চিমবঙ্গে দুই হাউস চার্চে হামলার অভিযোগ, যাজক ও উপাসনাকারীদের মারধরের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পৃথক দুই ঘটনায় খ্রিস্টানদের হাউস চার্চের প্রার্থনাসভায় হামলা, ভাঙচুর ও উপাসনাকারীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ঘটনাগুলো ঘটে বলে স্থানীয় খ্রিস্টান, প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

উত্তর ২৪ পরগনায় প্রার্থনাসভার আগে হামলার অভিযোগ

১৯ সেপ্টেম্বর উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সূর্যাপুর গ্রামের পুজা সত্যকির বাড়িতে একটি হাউস চার্চের প্রার্থনাসভার প্রস্তুতির সময় হামলার অভিযোগ ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শী সঞ্জিত সারদারের ভাষ্য অনুযায়ী, লোহার রড ও লাঠি হাতে একটি দল বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বাইবেল, স্তোত্রের বই ও ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সঞ্জিতের দাবি, পুজা সত্যকি, অর্পিতা সারদার ও ঝুমা জানা নামে তিন নারী উপাসনাকারীকে মারধর ও গালাগাল করা হয়। পরে তাদের মোহনপুর থানায় নেওয়া হয় এবং চিকিৎসা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয় বলে তিনি জানান। ঘটনাটির পর থানার বাইরে উত্তেজিত লোকজনের উপস্থিতির কথাও তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় খ্রিস্টানদের অভিযোগে হামলাকারীদের সঙ্গে বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) সংশ্লিষ্টতার দাবি করা হয়েছে। তবে সব হামলাকারীর সংগঠনগত পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

পূর্ব মেদিনীপুরে যাজক ও উপাসনাকারীকে মারধরের অভিযোগ

এর পরদিন, ২০ সেপ্টেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি মহকুমার খেজুরি থানার অধীন ডেকালি জালপাই এলাকায় Dekhali Church and Mission-এর প্রার্থনাসভায় আরেকটি হামলার অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৫০ জনের একটি দল প্রার্থনাসভায় প্রবেশ করে। সেখানে যাজক চিন্তামণি মিদ্দে ও ভাগ্যধর জানাকে মারধর এবং অন্য উপাসনাকারীদের গালাগাল ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রার্থনাসভার কার্যক্রম বন্ধ করার জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় আইনজীবী আদিত্য তেওয়ারির ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশকে খবর দেওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্তদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়। উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কায় সে সময় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণের পরিবর্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে শান্তি বৈঠকের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তবে পরবর্তী একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ওই ঘটনার বিষয়ে খেজুরি থানায় FIR দায়েরের দাবি করা হয়েছে। ফলে অভিযোগ গ্রহণ ও FIR-এর সময়সংক্রান্ত তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে এক নয়।

হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে অভিযোগ

দুই ঘটনাতেই স্থানীয় খ্রিস্টানদের বক্তব্যে হামলাকারীদের সঙ্গে বজরং দল বা VHP-এর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এসেছে। তবে এ ধরনের সংগঠনগত পরিচয়কে অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করাই নিরাপদ, কারণ প্রত্যেক হামলাকারীর পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতা প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে—এমন প্রমাণ এই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি।

খ্রিস্টান সংগঠনগুলোর উদ্বেগ

বেঙ্গল ক্রিশ্চিয়ান কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সচিব হেরল্ড মুল্লিক পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ এলাকায় হাউস চার্চের প্রার্থনাসভায় বাধা ও হামলার ঘটনা বাড়ছে বলে দাবি করেছেন। অল ইন্ডিয়া ক্যাথলিক ইউনিয়নের মুখপাত্র জন দয়ালও এসব ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গের আরও কয়েকটি এলাকায় খ্রিস্টানদের প্রার্থনাসভা বাধাগ্রস্ত বা হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। Alt News সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৫টি ঘটনার নথি সংগ্রহের কথা জানিয়েছে; তবে এসব ঘটনার সবগুলো একইভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে—এমন দাবি করা হয়নি।

পুলিশি অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ

ঘটনাগুলো নিয়ে স্থানীয় খ্রিস্টানদের অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশের বক্তব্যও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। Times of India-এর প্রতিবেদনে পুলিশ কিছু অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং দ্বিতীয় ঘটনায় FIR হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments