কৃষি ও অর্থনীতি ডেস্কঃ
আসন্ন রবি মৌসুমকে সামনে রেখে দেশে নন-ইউরিয়া সারের মজুত বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৈশ্বিক বাজারে সারের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার টন নন-ইউরিয়া সার কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে নেওয়া এ উদ্যোগের আওতায় ডায়ামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি), ট্রিপল সুপারফসফেট (টিএসপি) এবং মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সংগ্রহ করা হবে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এসব সার সংগ্রহ করবে। পুরো ক্রয় প্রক্রিয়া ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
কোন কোন দেশ থেকে আসবে সার?
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী সৌদি আরব, রাশিয়া, মরক্কো, কানাডা, মিসরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নন-ইউরিয়া সার সংগ্রহ করা হবে।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো—বর্তমান আমন মৌসুমের পাশাপাশি সামনে আলু, সবজি, গম, ভুট্টা, সরিষা ও বোরোসহ রবি ফসলের চাষে প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা।
বর্তমানে মজুত কত?
কৃষি সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ টন সার মজুত রয়েছে। এর বাইরে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টনের বেশি সার পথে রয়েছে, যা সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দেশে পৌঁছানোর কথা।
অক্টোবরে দেশের প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টন সার। সরকারি হিসাবে জাতীয় পর্যায়ে সরবরাহ পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে।
কেন বাড়ানো হচ্ছে সার কেনার পরিমাণ?
বিশ্ববাজারে সারের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় অনিশ্চয়তার কারণে আগেভাগেই মজুত বাড়াতে চাইছে সরকার।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংঘাত ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির প্রভাবে সার সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ রাসায়নিক সারের একটি বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা দেশের কৃষি খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে সারের চাহিদা কত?
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে মোট প্রায় ৫৮ লাখ টন সার প্রয়োজন হবে।
এর মধ্যে—
ইউরিয়া: ২৮ লাখ টনের বেশি
নন-ইউরিয়া: প্রায় ৩০ লাখ টন
অর্থাৎ মোট চাহিদার বড় একটি অংশই ডিএপি, টিএসপি ও এমওপির মতো নন-ইউরিয়া সারের।
এর আগে আরও সার আমদানির অনুমোদন
সারের মজুত বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে একাধিক চালান আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ৩ লাখ ৬৫ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি ছিল। ওই ক্রয়ের আনুমানিক ব্যয় ছিল প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
এ ছাড়া ৪৪টি বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও ৯ লাখ ২০ হাজার টন নন-ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ মূলত আসন্ন বোরো মৌসুমের আগে সরবরাহ নিশ্চিত করার অংশ।
ডিলার নিয়োগেও নতুন উদ্যোগ
সারের সরবরাহ কৃষকের কাছে আরও সহজ করতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়া এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

0 Comments