ক্রাইম ডেস্ক, দিনাজপুরঃ
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) এক অধ্যাপকের কাছে ‘পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির নেতা’ পরিচয়ে ফোন করে চাঁদা দাবি এবং টাকা না দিলে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের জৈব রসায়ন ও আণবিক জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু সাঈদ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নূরনবী।
ফোন করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি
জিডিতে অধ্যাপক আবু সাঈদ উল্লেখ করেন, বুধবার দুপুরে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে তার মুঠোফোনে কল আসে। কলদাতা নিজেকে ‘পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির প্রধান শিকদার মহিউদ্দিন’ হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রথমে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে একটি বিকাশ নম্বরে ২৫ হাজার টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়।
কলদাতা দাবি করেন, তার কয়েকজন সহযোগী ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন এবং তাদের অস্ত্রোপচারের জন্য অর্থ প্রয়োজন। তবে অধ্যাপক আবু সাঈদ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার হুমকির অভিযোগ
অধ্যাপকের অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর কলদাতা তার বাড়িতে ২০ থেকে ২৫ জন লোক পাঠানোর এবং স্ত্রী-সন্তানকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেন। এমনকি পরিবারের সদস্যদের হত্যার পাশাপাশি বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে অধ্যাপক বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানান। পরে আইনগত সহায়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে থানায় জিডি করেন।
জিডির নম্বর ২২৫১।
অধ্যাপকের বক্তব্য
অধ্যাপক ড. মো. আবু সাঈদ বলেন, অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে তাকে ফোন করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয় এবং ফোনদাতা নিজেকে একটি সর্বহারা সংগঠনের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে বাড়িতে লোক পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রী-সন্তানকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
তদন্ত করছে পুলিশ
দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ নূরনবী জানান, অধ্যাপক আবু সাঈদের জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষণ: পরিচয় যাচাই ও ডিজিটাল তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ফোনে কোনো নিষিদ্ধ বা সশস্ত্র সংগঠনের নেতা পরিচয় দেওয়া হয়েছে—এ তথ্যের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায় না। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর, কলের তথ্য, অর্থ পাঠানোর জন্য দেওয়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল তথ্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে।
একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকির অভিযোগ থাকায় বিষয়টি শুধু চাঁদা দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অভিযোগটি সত্য প্রমাণিত হলে এটি গুরুতর অপরাধের আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত। তদন্তের মাধ্যমে কলদাতার পরিচয়, চাঁদা দাবির উদ্দেশ্য এবং হুমকির বাস্তবতা নিশ্চিত করাই এখন পুলিশের প্রধান কাজ।
শেষ কথা
হাবিপ্রবি অধ্যাপকের কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি ও পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকির অভিযোগে থানায় জিডি হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফোনদাতার পরিচয় বা সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার দাবি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশের তদন্তেই অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা স্পষ্ট হবে।

0 Comments