Header Ads Widget

Responsive Advertisement

শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দিতে হবে: শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী


ভাষা, তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা ছাড়া বৈশ্বিক কর্মবাজারে টিকে থাকা কঠিন; গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজে ছাত্রীনিবাস, আইসিটি ল্যাব ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ

সিলেট প্রতিনিধি:

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভাষা, তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা সনদ অর্জন করলেই বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সফল হওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও পেশাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের দিকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান ও আরবি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা গেলে আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে তরুণদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হতে পারে।

ছাত্রীনিবাস ও অনার্স চালুর উদ্যোগ

গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজে ছাত্রীদের লেখাপড়ায় আগ্রহ ও অংশগ্রহণের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি একটি কার্যকর একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা ছাত্রীদের আবাসন সুবিধা বাড়াতে কলেজে একটি ছাত্রীনিবাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি কলেজে অনার্স চালুর জন্য প্রস্তাবিত পাঁচটি বিষয়ে দ্রুত অনুমোদনের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন।

বাড়বে আইসিটি ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ

তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও আইসিটি ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা যথেষ্ট নয়। ভাষা শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের সমন্বিত সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

এ লক্ষ্যে গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। ভবিষ্যতে গোয়াইনঘাট উপজেলায় সরকারি স্থাপনা ও বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে তরুণদের জন্য উপজেলা পর্যায়েও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান

সিলেটের শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, একসময় এ অঞ্চলের বহু মানুষ সিভিল সার্ভিস, সামরিক বাহিনী, পুলিশ, চিকিৎসা ও প্রকৌশলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বর্তমান প্রজন্মকে মানসম্মত শিক্ষা ও যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। এ সময় ভবিষ্যতে কোন বিষয়ে পড়াশোনা এবং কোন ক্ষেত্রে কর্মজীবন গড়ে তুলবে, সে বিষয়ে লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তবমুখী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে মনোযোগী হতে হবে।

শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান—বদলাতে হবে দৃষ্টিভঙ্গি

বর্তমান কর্মবাজারে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তি, ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ যুক্ত করা গেলে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি আরও কার্যকর হতে পারে।

গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজে আইসিটি ল্যাব সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন, ভাষা শিক্ষার সুযোগ এবং অনার্স চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়তে পারে। বিশেষ করে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিও শক্তিশালী হতে পারে।

তবে এসব উদ্যোগের কার্যকর ফল পেতে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, প্রশিক্ষণের মান, দক্ষ প্রশিক্ষক, আধুনিক কারিকুলাম এবং প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সঙ্গে সংযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নকে একই ধারায় এগিয়ে নেওয়া গেলে তরুণদের সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে কর্মমুখী ও আত্মনির্ভর মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা

গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব নুমেরী জামান, উপসচিব মোহাম্মদ শামছুল ইসলাম, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারীসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী পুকাশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, গুরুকচি উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজে স্মার্ট আইটি ল্যাব উদ্বোধন করেন।

Post a Comment

0 Comments