কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ
কুষ্টিয়ার মিরপুরে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার চিথলিয়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমানকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় তদবিরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জামায়াত ও বিএনপির আট নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলের দায়িত্বশীল নেতাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিথলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাফিজুর রহমানকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চিথলিয়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি। নাশকতার অভিযোগে করা একটি মামলায় তাঁকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হাফিজুর রহমানকে থানায় নেওয়ার খবর পেয়ে রাত প্রায় ২টার দিকে চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি মিরপুর থানায় যান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা হাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ ও তদবির করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁদেরও আটক করা হয়।
আটক আটজন হলেন—জামায়াতের সিরাজুল ইসলাম, মারুফ, বাশার, মফিজুল প্রামাণিক, জাহাঙ্গীর হোসেন ও বাদল প্রামাণিক এবং বিএনপির মেহেরুল ইসলাম ও শহীদুল ইসলাম।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, নিষেধ করার পরও তাঁরা নাশকতা মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করতে থাকেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আটকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। এরপর উভয় দলের দায়িত্বশীল নেতাদের জিম্মায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে হাফিজুর রহমানকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে কী?
ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে আইনগত প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি সামনে এনেছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ছাড়ানোর জন্য থানায় তদবির করায় আটজনকে আটক করা হয়। তবে তাঁদের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে কীভাবে দেখা হচ্ছে, সে বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্যও এসেছে।
মিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ জানিয়েছেন, থানায় যাওয়া ব্যক্তিরা দলের সমর্থক এবং তাঁদের ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটাতে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে মিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির রেজাউল করিম বলেছেন, সিরাজুল ইসলাম প্রতিবেশী হিসেবে থানায় গিয়েছিলেন এবং হাফিজুর রহমানের সঙ্গে তাঁদের ভালো সম্পর্ক ছিল।
ফলে একদিকে নাশকতা মামলার তদন্ত ও হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের আইনগত নিষ্পত্তি গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে থানায় গিয়ে তাঁকে ছাড়ানোর চেষ্টা করার অভিযোগে আটক আটজনের ভূমিকার বিষয়টিও পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় আরও স্পষ্ট হতে পারে।

0 Comments