Header Ads Widget

Responsive Advertisement

চাঁদা বিরোধের জেরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুর


ইসিবি চত্বরে ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ; ঘটনাস্থল থেকে দুজন আটক করেছে পুলিশ

ক্রাইম ডেস্কঃ

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি কনডোমিনিয়াম সিটি এলাকায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় স্টুডিওর পেশাদার প্রোডাকশন সরঞ্জাম, সিসিটিভি ক্যামেরা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত ও লুট হওয়ার কথা জানা গেছে। একই আবাসন প্রকল্পের আরও কয়েকটি স্থাপনা ও ইউনিটেও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে।

চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বিরোধের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবাসন প্রকল্পটির জমির মালিকের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। সেই অর্থ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

তবে সালমান মুক্তাদির জানিয়েছেন, তার কাছে ব্যক্তিগতভাবে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পত্তির মালিক ও হামলাকারীদের মধ্যে কোনো বিরোধের মধ্যে তার স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে।

স্টুডিওতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা স্টুডিওর শাটার ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আসবাবপত্রে ভাঙচুর চালানো এবং কিছু মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

স্টুডিওর কর্মীদের একজন জানান, হামলার সময় তারা নিরাপত্তার জন্য একটি কক্ষে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামলাকারীরা সেখানে গিয়েও তাদের ভয় দেখিয়ে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলার সময় স্টুডিওতে ছিলেন না সালমান

ঘটনার সময় সালমান মুক্তাদির ঢাকার বাইরে, চট্টগ্রামে ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি ঢাকায় ফিরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তিনি জানান, হামলায় তার কোনো কর্মী আহত হননি। তবে স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বিএনপি কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ

সালমান মুক্তাদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে স্থানীয় বিএনপির কিছু কর্মী হামলার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

ফলে কারা হামলার সঙ্গে জড়িত এবং হামলার প্রকৃত কারণ কী—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

পুলিশের বক্তব্য ও দুজন আটক

ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন, জমি দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ইসিবি এলাকার একটি অফিসে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনাস্থল থেকে ছুরিসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হামলার কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিশ্লেষণ

ঘটনাটি শুধু একটি স্টুডিওতে হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; একই আবাসন প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ থাকায় এর পেছনে থাকা বিরোধের প্রকৃতি নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চাঁদা দাবি, জমি দখল বা সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ—যে কারণই থাকুক, প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার আগে তা চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করাই সাংবাদিকতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

সামনে কী?

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত এগোলে হামলার মূল কারণ, কারা এতে জড়িত এবং লুট হওয়া সামগ্রীর বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

Post a Comment

0 Comments