Header Ads Widget

Responsive Advertisement

কালীগঞ্জে গ্রাহকের স্বাক্ষর জাল করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, জাগরণী চক্রের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে


কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে গ্রাহকের স্বাক্ষর জাল করে সঞ্চয় ও কিস্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের কালীগঞ্জ এরিয়া অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী গ্রাহকের অভিযোগ, তার স্বাক্ষর জাল করে সঞ্চয়ী হিসাব থেকে কয়েক দফায় টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিশোধ করা কয়েকটি কিস্তির টাকা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে যখন ওই গ্রাহকের নামে ১৯ হাজার ৩০০ টাকা পাওনা দাবি করে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়। এরপর তিনি প্রতিষ্ঠানের হিসাব ও সমিতির বই যাচাই করে কথিত অনিয়মের বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন।

ঋণ নিয়ে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের দাবি

ভুক্তভোগী গ্রাহক বাজার গ্রামের হোসনে আরা খাতুন জানান, মাছ চাষের উদ্দেশ্যে তিনি ২০২২ সালের ৯ জুন জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের কালীগঞ্জ এরিয়া অফিস থেকে দুই বছর মেয়াদে ১ লাখ টাকা ঋণ নেন। ঋণের বিপরীতে ২৪ শতাংশ লভ্যাংশ নির্ধারিত ছিল বলে তিনি জানান।

ঋণ গ্রহণের সময় জামানত হিসেবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের একটি সঞ্চয়ী হিসাবের স্বাক্ষর করা, তবে টাকার অঙ্ক উল্লেখ না করা চেক জমা দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

হোসনে আরার দাবি, ঋণ নেওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে হিসাব যাচাই করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার নামে কয়েকটি কিস্তির টাকা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা হয়নি।

পাঁচ কিস্তির ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জমা না দেওয়ার অভিযোগ

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মাঠকর্মী তুহিন এবং এরিয়া ম্যানেজার আবদুল আলিম সাজ্জাদ-এর যোগসাজশে তার স্বাক্ষর জাল করে ৬ হাজার ৩৩২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি কিস্তিতে পরিশোধ করা মোট ২৬ হাজার ৫০০ টাকা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে তার কাছে ১৯ হাজার ৩০০ টাকা পাওনা রয়েছে উল্লেখ করে একটি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়।

অফিসের হিসাব যাচাই করে অভিযোগ করেন গ্রাহক

হোসনে আরা বলেন, উকিল নোটিশ পাওয়ার পর তিনি সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে নিজের হিসাব ও সমিতির বই পরীক্ষা করেন। তখন তার অভিযোগ অনুযায়ী, কিস্তির টাকা জমা না দেওয়ার পাশাপাশি তার সঞ্চয়ী হিসাব থেকে পাঁচ দফায় মোট ৬ হাজার ৩৩২ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে দেখতে পান।

এরপর বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও কথা বলতে অনাগ্রহ

অভিযোগের বিষয়ে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের এরিয়া ম্যানেজার সাজ্জাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে মাঠকর্মী তুহিনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

পাল্টা নোটিশ, আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি

ভুক্তভোগী হোসনে আরা জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে পাল্টা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে গ্রাহকের স্বাক্ষর জাল, কিস্তির টাকা জমা না দেওয়া এবং সঞ্চয়ের অর্থ উত্তোলনের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র, হিসাব বই ও ব্যাংক লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

Post a Comment

0 Comments