Header Ads Widget

Responsive Advertisement

চার ভাগে ভাঙবে উত্তর প্রদেশ? বড় দাবি মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভরের


জাতিভিত্তিক জনগণনা শেষ হলেই রাজ্য বিভাজনের কাজ শুরু হতে পারে—দাবি উত্তর প্রদেশের মন্ত্রীর; সম্ভাব্য চার রাজ্য হিসেবে পূর্বাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, বুন্দেলখণ্ড ও হাড়িত প্রদেশের নাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশকে ভবিষ্যতে চারটি পৃথক রাজ্যে ভাগ করা হতে পারে—এমন দাবি করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী ও সুহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির (এসবিএসপি) প্রধান ওম প্রকাশ রাজভর

তার দাবি, জাতিভিত্তিক জনগণনা শেষ হওয়ার পর উত্তর প্রদেশ বিভাজনের বিষয়ে কাজ শুরু হতে পারে। এমনকি এ বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার কথোপকথন হয়েছে বলেও দাবি করেছেন রাজভর।

তবে এটি বর্তমানে একজন রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য ও দাবি; উত্তর প্রদেশকে চার ভাগে ভাগ করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

কী বললেন ওম প্রকাশ রাজভর?

রবিবার ভারতের আম্বেদকর নগর জেলায় একটি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় রাজভর উত্তর প্রদেশ বিভাজনের প্রসঙ্গ তোলেন।

তিনি দাবি করেন, জাতিভিত্তিক জনগণনা শেষ হওয়ার পর রাজ্য ভাগের বিষয়ে আর কোনো বাধা থাকবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণনা সম্পন্ন হওয়ার পরই এ বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হতে পারে।

রাজভরের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।

তবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন কোনো বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে এই অংশটি রাজভরের বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন

চার ভাগে কীভাবে ভাগ হতে পারে উত্তর প্রদেশ?

রাজভরের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশ বিভক্ত হলে সম্ভাব্য চারটি অংশ হতে পারে—

  • পূর্বাঞ্চল

  • মধ্যাঞ্চল বা মায়ান্যাঞ্চল

  • বুন্দেলখণ্ড

  • হাড়িত প্রদেশ

এই চারটি অঞ্চল নিয়ে আলাদা রাজ্য গঠনের ধারণা অবশ্য নতুন নয়। উত্তর প্রদেশের ভৌগোলিক, প্রশাসনিক ও আঞ্চলিক বৈচিত্র্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে রাজ্য পুনর্গঠনের আলোচনা রয়েছে।

পূর্বাঞ্চল নিয়ে রাজভরের বিশেষ দাবি

সম্ভাব্য পূর্বাঞ্চল রাজ্য নিয়ে নিজের রাজনৈতিক সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ মন্তব্যও করেছেন রাজভর।

তার দাবি, পূর্বাঞ্চলে রাজভর সম্প্রদায়ের ভোটার সংখ্যা বেশি। ফলে ভবিষ্যতে পূর্বাঞ্চল পৃথক রাজ্যে পরিণত হলে সেখানকার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী রাজভর সম্প্রদায়ের কেউ হতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এটি রাজভরের রাজনৈতিক বক্তব্য; পৃথক রাজ্য গঠিত হলে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, সে বিষয়ে বর্তমানে কোনো সাংবিধানিক বা সরকারি সিদ্ধান্ত নেই।

উত্তর প্রদেশ বিভাজনের পুরোনো ইতিহাস

উত্তর প্রদেশকে ছোট ছোট রাজ্যে ভাগ করার দাবি ভারতের রাজনীতিতে বহুদিনের।

প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সহজ করা, আঞ্চলিক বৈষম্য কমানো এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলকে রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্রের কাছাকাছি আনার যুক্তিতে বিভিন্ন সময়ে আলাদা রাজ্যের দাবি উঠেছে।

বিশেষ করে বুন্দেলখণ্ড ও পূর্বাঞ্চলকে পৃথক রাজ্য করার দাবি বিভিন্ন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে অতীতে উত্থাপিত হয়েছে।

২০১১ সালেও উঠেছিল চার রাজ্যের প্রস্তাব

উত্তর প্রদেশকে চার ভাগে বিভক্ত করার প্রস্তাব একেবারে নতুন নয়।

২০১১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর নেতৃত্বাধীন বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) সরকার উত্তর প্রদেশকে চারটি পৃথক রাজ্যে ভাগ করার একটি প্রস্তাব বিধানসভায় পাস করেছিল।

প্রস্তাবিত বিভাজনে পূর্বাঞ্চল, বুন্দেলখণ্ড, পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলকে আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনার ধারণা ছিল।

তবে সেই প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন পায়নি এবং বাস্তবায়িতও হয়নি।

কেন আবার সামনে এলো উত্তর প্রদেশ ভাগের দাবি?

বর্তমান সময়ে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।

উত্তর প্রদেশ আয়তন ও জনসংখ্যা—দুই দিক থেকেই ভারতের অন্যতম বৃহৎ রাজ্য। রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক চাহিদার মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে।

ফলে দীর্ঘদিন ধরে একটি যুক্তি রয়েছে যে, এত বড় একটি রাজ্যকে ছোট প্রশাসনিক এককে ভাগ করলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সহজ হতে পারে।

অন্যদিকে রাজ্য বিভাজনের বিরোধিতায় যুক্তি হিসেবে প্রশাসনিক পুনর্গঠনের জটিলতা, নতুন রাজধানী ও প্রতিষ্ঠান তৈরির প্রয়োজন, সম্পদ বণ্টন এবং রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের মতো বিষয় সামনে আসে।

৪০৩ আসনের উত্তর প্রদেশে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?

উত্তর প্রদেশ বিধানসভায় মোট ৪০৩টি আসন রয়েছে। রাজ্যটি রাজনৈতিকভাবে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যকে চার ভাগে ভাগ করার আলোচনা শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়; এর সঙ্গে আঞ্চলিক রাজনীতি, প্রতিনিধিত্ব, সম্পদ বণ্টন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণের প্রশ্নও জড়িয়ে যেতে পারে।

রাজভরের সাম্প্রতিক বক্তব্য তাই উত্তর প্রদেশের পুরোনো রাজ্য বিভাজন বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

সামনে কী?

বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—রাজভরের বক্তব্য কি কেবল রাজনৈতিক দাবি, নাকি ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি হবে?

জাতিভিত্তিক জনগণনা, রাজ্য পুনর্গঠন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত—এই তিনটি বিষয় সামনে না আসা পর্যন্ত উত্তর প্রদেশ চার ভাগে বিভক্ত হবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

তাই আপাতত “চার ভাগে উত্তর প্রদেশ”—এটি কোনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত নয়; বরং উত্তর প্রদেশের একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার করা নতুন দাবি হিসেবেই বিষয়টি দেখার সুযোগ রয়েছে।

এক নজরে

দাবি: উত্তর প্রদেশ চার ভাগে বিভক্ত হতে পারে
দাবিদার: মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভর
সম্ভাব্য অঞ্চল: পূর্বাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, বুন্দেলখণ্ড ও হাড়িত প্রদেশ
শর্ত হিসেবে উল্লেখ: জাতিভিত্তিক জনগণনা সম্পন্ন হওয়া
পুরোনো উদ্যোগ: ২০১১ সালে চার ভাগে বিভাজনের প্রস্তাব উত্তর প্রদেশ বিধানসভায় পাস
বর্তমান অবস্থা: নতুন বিভাজনের কোনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে নেই

Post a Comment

0 Comments