Header Ads Widget

Responsive Advertisement

চা শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী


সিলেট প্রতিনিধি

চা শ্রমিকদের মজুরি শুধু একটি নির্দিষ্ট অঙ্কে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের উপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার—এমন কথা জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। একই সঙ্গে চা বাগানগুলোকে লাভজনক ও টেকসই করে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

‘মজুরি কত টাকা, শুধু সেটিই মূল বিষয় নয়’

বুধবার সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগান মাঠে সরকারের সিএসআর তহবিলের সহযোগিতায় চা শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, চা শিল্পের বৈশিষ্ট্য অন্যান্য শিল্পের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন।

তার মতে, একজন শ্রমিক যাতে স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন, সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে মজুরি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

আর্থিক সংকটে থাকা বাগানকে লাভজনক করার উদ্যোগ

মন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক চা বাগান দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। কোনো কোনো বাগানে শ্রমিকদের বেতন-ভাতাও নিয়মিত পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।

এ পরিস্থিতিতে শুধু শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো নয়, একই সঙ্গে চা বাগানের আয় ও উৎপাদন বাড়িয়ে শিল্পটিকে টেকসই ও লাভজনক করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বাগানের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো গেলে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগও বাড়বে।

চা বাগানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা

চা বাগানের আয় বাড়াতে বিকল্প সম্পদ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, যেসব চা বাগানে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও সরবরাহ অবকাঠামোর সুযোগ রয়েছে, সেখানে চা গাছের ক্ষতি না করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে অতিরিক্ত আয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর পাশাপাশি মসলা জাতীয় গাছ, টিম্বারসহ বাগানে উপযোগী অন্যান্য সম্পদ ব্যবহারের বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষা-স্বাস্থ্যে গুরুত্ব, বাড়বে অবকাঠামো

চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী।

প্রয়োজন অনুযায়ী চা বাগান এলাকায় প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাগানের রাস্তাঘাট উন্নয়নেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

শ্রমিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সেবা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নতুন প্রজন্মের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতায় জোর

চা শ্রমিক পরিবারের নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, শ্রমিক পরিবারের সন্তানরা যেন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক পেশায়ও যেতে পারে—সে সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, চা শিল্পকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা, বাগানের আয় এবং শ্রমিকদের জীবনমান—সবগুলো বিষয়কে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বাজারে নজরদারি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গেও কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশে সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি বিক্রি হওয়ায় মূল্য সমন্বয়ের প্রভাব সরাসরি মানুষের নজরে আসে।

তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যাতে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে না যায়, সে জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে বাজার পর্যবেক্ষণ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে অতিরিক্ত মুনাফা করতে না পারেন, সে জন্য বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি বাজারের পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

জ্বালানি তেল পাচারের বিষয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিষয়টি নজরদারি করছে এবং জেলা পর্যায়েও প্রশাসনের পর্যবেক্ষণ রয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি কর্মীদের বেতন নিয়েও বক্তব্য

সরকারি ও বেসরকারি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সমন্বয় না হওয়ায় পর্যায়ক্রমে বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একবারে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

বেসরকারি খাতে শ্রমিকদের বেতন মূলত শ্রমবাজারের চাহিদা ও পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মালিকপক্ষ নির্ধারণ করে থাকে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিরোধী দলের ‘গঠনমূলক’ ভূমিকা প্রত্যাশা

বিরোধী দলের সমালোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রয়েছে।

মানুষের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও বিশ্লেষণ যেন গঠনমূলক এবং জনস্বার্থে কার্যকর হয়—এমন প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে যারা ছিলেন

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াতসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও চা শ্রমিকরা।

Post a Comment

0 Comments