সিলেট প্রতিনিধি | শিক্ষা ডেস্ক
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধীনে পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। দাবির সমর্থনে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করা হয়। এতে কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ১৪ জন শিক্ষক এবং কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
এক দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের শাটডাউন
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বর্তমানে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকায় তাদের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তাদের বক্তব্য, কলেজটিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে শাবিপ্রবির অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাবসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর কলেজ
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বর্তমানে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, পুরকৌশল এবং কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল—এই তিনটি বিভাগ রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে কলেজটিতে পাঁচটি ব্যাচে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তারা এই দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও কাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দীর্ঘসূত্রতা তাদের একাডেমিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে বলে দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনের মধ্যেই অধ্যক্ষ বদলি
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই রোববার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়।
একই আদেশে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এই বদলি আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের বক্তব্য, মূল দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং নতুন অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়েও তারা আপত্তি জানাবেন।
অধ্যক্ষের বক্তব্য
কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত হয়ে শাবিপ্রবির অধীনে যাওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছেন। আন্দোলনের কারণে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে থাকার বিষয়টি তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।

0 Comments