Header Ads Widget

Responsive Advertisement

মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর: নাহিদের প্রশ্ন, ‘দেশে কি কোনো সরকার আছে?’


৫০ বছরের পুরোনো রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাতের আঁধারে ভাঙচুর-লুটের অভিযোগ; জড়িতদের গ্রেপ্তার ও মূলহোতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি

জাতীয় ডেস্কঃ

রাজধানীর মিরপুরে প্রায় পাঁচ দশক ধরে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার রাতের আঁধারে ভাঙচুর, লুটপাট ও ধ্বংসের ঘটনায় সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদান কার্যক্রম চালানো একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাজধানীর মতো এলাকায় রাতারাতি ভাঙচুর ও দখলের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিস্থিতিতে দেশে কার্যকরভাবে সরকারের উপস্থিতি আছে কি না।

রাতের আঁধারে ভাঙচুর ও লুটপাট

অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের দিকে বিপুলসংখ্যক মুখোশধারী ব্যক্তি রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে প্রবেশ করে। সেখানে নিরাপত্তাকর্মীদের আটকে রেখে ভাঙচুর ও লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্থাপনাটির একাধিক অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী লুট করা হয়েছে। মামলার নথিতেও বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত ও লুট হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

৫০ বছরের স্বাস্থ্যসেবায় ছেদ

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি প্রায় ৫০ বছর ধরে স্থানীয় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত নারী-শিশুদের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃসেবা, পরিবার পরিকল্পনা এবং টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

ফলে স্থাপনাটি ধ্বংসের ঘটনা শুধু একটি ভবন ভাঙার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এর সঙ্গে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগও জড়িত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নাহিদের অভিযোগ ও দাবি

নাহিদ ইসলাম বলেন, রাতভর ভাঙচুর ও লুটপাট চললেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায় একটি হাসপাতাল দখলের মতো ঘটনা ঘটলে তা জনমনে সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতেই পারে।

তিনি দাবি করেন, স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এবং ঢাকা উত্তর বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা এই ভাঙচুর ও দখলকাণ্ডে উসকানি দিয়েছেন।

তবে এটি নাহিদ ইসলামের উত্থাপিত অভিযোগ; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা আদালত বা তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বাকি।

নাহিদ ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং পেছনে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানান।

ইতোমধ্যে চারজন গ্রেপ্তার

ঘটনাটি নিয়ে শাহ আলী থানায় মামলা হওয়ার পর পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্তকারীরা এখন আরও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছেন।

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত

ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও ভাঙচুর ঠেকানো যায়নি—এমন প্রশ্নের মুখে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে পুলিশের কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে কোনো কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের অভিযোগ

ঘটনার পেছনে জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ কাঠা জমিটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল।

অন্যদিকে, যে সংগঠনের নামে ঘটনাস্থলে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে জমির বৈধ বরাদ্দ ও মালিকানার দাবি করা হয়েছে। ফলে ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক এখন জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধও।

Post a Comment

0 Comments