বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা উঠে এসেছে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের ফেরত পাঠানো এবং সফরের অনুকূল পরিবেশ—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লি সফরে নিতে ভারতের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ এবং পরবর্তী সময়ে দিল্লিতে যোগাযোগের বিষয়টিও এতে উঠে এসেছে। একই সময়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের ঢাকা সফরের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকার অবস্থান প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও পারস্পরিক সম্মান ও আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো সমাধানের সুযোগ রয়েছে। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।
এর মধ্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় এ বিষয়ে ভারতকে নথিপত্রসহ অনুরোধ জানানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগ বাড়ায় দিল্লির উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়েও ঢাকার সঙ্গে বেইজিংয়ের সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে।
ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দিল্লির বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হলে বাণিজ্য, ভিসা, জ্বালানি ও অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ, কূটনৈতিক সমঝোতা এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলোর অগ্রগতির ওপর। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

0 Comments