বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও কিছু সময়ের মধ্যেই সেটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (২২ আগস্ট) ফোরকোর্টে নিয়মিত ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না। কারণ হিসেবে একজন বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার প্রস্তুতির মহড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। বিজ্ঞপ্তিতে প্রধানমন্ত্রীর নাম বা সফরের নির্দিষ্ট তারিখ অবশ্য জানানো হয়নি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা চলায় বিজ্ঞপ্তিটি স্বাভাবিকভাবেই সম্ভাব্য সফরের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হয়। তবে প্রকাশের কিছুক্ষণ পরই রাষ্ট্রপতি ভবন কোনো কারণ উল্লেখ না করে বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করে নেয়। ভারতের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরের সময়সূচি নিয়েও এখনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। এর আগে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে সফরের তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। পাশাপাশি দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এদিকে সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফরের ক্ষেত্রে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানদের সম্মানে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এতে গার্ড অব অনার, জাতীয় সংগীত পরিবেশনসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা থাকে। ফলে ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান বাতিলের ঘোষণাটি প্রকাশ পাওয়ার পর সেটিকে সম্ভাব্য সফরের প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়েছিল।
তবে বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সফরের সময়সূচি ও কর্মসূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

0 Comments