দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা পূরণে স্থানীয় কয়লা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন কয়লাখনি থেকে জ্বালানি উত্তোলন করা গেলে আমদানি নির্ভরতা ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় কমানো সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে বাংলাদেশে সাতটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ৩১২ মেগাওয়াট। বড়পুকুরিয়া ছাড়া এসব কেন্দ্রের জন্য বিপুল পরিমাণ কয়লা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কয়লা আমদানির মূল্য ছিল প্রায় ১৪ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফুলবাড়ী কয়লাখনিতে আনুমানিক ৫৭২ মিলিয়ন টন কয়লার মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৭২ মিলিয়ন টন উত্তোলনযোগ্য বলে সংশ্লিষ্টদের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খনিটির কয়লার স্তর ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২৪০ মিটার গভীরে অবস্থান করছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফুলবাড়ী খনি থেকে বছরে প্রায় ১৫ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বছরে প্রায় ২০ মিলিয়ন টন কয়লা আমদানি করতে হয়। সে হিসাবে স্থানীয়ভাবে ফুলবাড়ীর কয়লা ব্যবহার করা গেলে আমদানির একটি বড় অংশের বিকল্প তৈরি হতে পারে।
তবে কয়লা উত্তোলন নিয়ে পরিবেশ, কৃষিজমি, পানি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০০৬ সালে ফুলবাড়ীতে কয়লা উত্তোলনবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। ফলে নতুন করে খনি কার্যক্রম শুরু করতে হলে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সরকার আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ জ্বালানি নীতি প্রকাশ করতে পারে বলে প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। ওই নীতিতে ফুলবাড়ী ও দীঘিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দেশীয় কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কারিগরি-পরিবেশগত সমীক্ষা প্রয়োজন। সম্ভাব্য ঝুঁকি, পরিবেশগত প্রভাব এবং তা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা যাচাই করে এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
বাংলাদেশে বড় কয়লাখনিগুলোর মধ্যে জামালগঞ্জ, খালাশপীর, দীঘিপাড়া, বড়পুকুরিয়া ও ফুলবাড়ী উল্লেখযোগ্য। এসব মজুদ কাজে লাগানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশীয় জ্বালানির অংশ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বাস্তবায়নের আগে পরিবেশ সুরক্ষা, স্থানীয় মানুষের স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

0 Comments