Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনায় জামায়াত



রাজনীতি | ১৭ আগস্ট ২০২৬

দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে—এমন অভিযোগ তুলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, জনগণের দুর্ভোগ ও সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে বিভিন্ন ইস্যু সামনে এনে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের বিষয় ছিল চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ।

জরুরি অর্থ ব্যয়ের আহ্বান

গোলাম পরওয়ার বলেন, বাজেটে বিপুল অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। সংকট মোকাবিলায় জরুরি খাতের অর্থ ব্যবহার করে দ্রুত জনগণের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব।

তার মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যার সমাধানে দীর্ঘ সময়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে অপেক্ষায় রাখার সুযোগ নেই। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ, ভুয়া বা অস্বাভাবিক বিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধের মাধ্যমে দ্রুত কিছু অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব বলেও তিনি দাবি করেন।

কুইক রেন্টাল নিয়ে অভিযোগ

জামায়াতের এই নেতা কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জের ব্যবস্থাকে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, এ খাতে বিপুল অর্থের অপচয় ও অনিয়ম হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন ধরনের সিন্ডিকেট ও অনিয়ম বন্ধ করতে পারলে সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

সংকট সমাধানে সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন

বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের সময়সীমা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বক্তব্যের মধ্যেও অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, সরকারের কেউ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সংকট সমাধানের কথা বলছেন, আবার কেউ তুলনামূলক কম সময়ের কথা বলছেন। তাঁর মতে, আগে সরকারের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

সমন্বিত প্রস্তাব দেওয়ার দাবি

গোলাম পরওয়ার জানান, বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি সমন্বিত প্রস্তাব দিয়েছে।

সরকারকে সেই প্রস্তাব বিবেচনা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ব্যর্থ হোক—এমনটি জামায়াত চায় না; কারণ জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব সরকার ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষ ও জাতীয় অর্থনীতির ওপরও পড়বে।

শিল্প ও অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা

জ্বালানি সংকটের কারণে রান্না, শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা এবং রপ্তানি কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেন জামায়াতের এই নেতা।

তিনি বলেন, সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ পরিবার, শ্রমিক ও উদ্যোক্তাদের ওপর। তাই রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

জামায়াত সরকারের প্রতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাজেটে বরাদ্দ অর্থ জনগণের দুর্ভোগ কমাতে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে।

Post a Comment

0 Comments