Header Ads Widget

Responsive Advertisement

প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ: বড় আর্থিক চাপে সিটি গ্রুপ



অনলাইন ডেস্ক

দেশের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী সিটি গ্রুপ এখন বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিপুল ঋণ, বিভিন্ন খাতে বড় বিনিয়োগ এবং তারল্য সংকট—সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত দেশের ও বিদেশের ৪৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সিটি গ্রুপের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা

এ অবস্থায় ঋণের চাপ সামাল দিতে পুঁজিবাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে গ্রুপটি। তবে আর্থিকভাবে চাপের মধ্যে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের নতুন করে শেয়ার, বন্ড বা অন্যান্য আর্থিক উপকরণের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ কতটা নিরাপদ—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

ঋণের বড় অংশ কোথায়?

সিটি গ্রুপের ঋণের তালিকায় দেশি-বিদেশি একাধিক বড় ব্যাংক রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, এইচএসবিসির কাছে গ্রুপটির পাওনা প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের কাছে প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা

এ ছাড়া সিটি ব্যাংক পিএলসির কাছে প্রায় ১ হাজার ৪৪০ কোটি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের কাছে ১ হাজার ১৬৭ কোটি এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের কাছে প্রায় ১ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের পাওনাও প্রায় ৯৮৬ কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১,৫০০ কোটি টাকা তুলতে চায় সিটি গ্রুপ

আর্থিক চাপ সামলাতে পুঁজিবাজারকে অর্থের নতুন উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছে সিটি গ্রুপ। এ জন্য লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের সঙ্গে চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গ্রুপটির পরিকল্পনায় প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) পাশাপাশি প্রাইভেট ইকুইটি, প্রেফারেন্স শেয়ার, করপোরেট বন্ড, সুকুকসহ অনুমোদিত বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের বিষয় রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন, আইনগত প্রক্রিয়া ও বাজার পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কোথায়?

বাজারসংশ্লিষ্টদের প্রধান উদ্বেগ হলো—বিপুল ঋণের মধ্যে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজার থেকে নতুন অর্থ সংগ্রহ করলে সেই অর্থের ব্যবহার কী হবে এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কতটা থাকবে।

এর আগে ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে একই পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সিটি গ্রুপের ঋণের পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক ওই উদ্যোগ থেকে সরে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের প্রকল্পেও আটকে বড় অঙ্কের অর্থ

সিটি গ্রুপের আর্থিক চাপের অন্যতম কারণ হিসেবে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিভিন্ন প্রকল্পে বড় বিনিয়োগের কথা উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে ছয়টি শিল্প প্রকল্পে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আটকে আছে। এসব বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত অর্থপ্রবাহ না এলেও অর্থায়নের খরচ ও সুদের চাপ বাড়ছে।

গ্রুপটির ঋণ পরিশোধ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কিছু সম্পদ বিক্রির বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে চা-বাগানের কিছু সম্পদ বিক্রির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ

সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারদের মতে, নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে সিটি গ্রুপকে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধার আওতায় রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে কিছু সম্পদ বিক্রি করে ঋণের একটি অংশ সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্তা কী?

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিটি গ্রুপের প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে এবং কয়েকটি বড় ব্যাংকের সঙ্গে সমাধানের পথ খোঁজার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বড় কোনো শিল্পগোষ্ঠী একই ধরনের কারণে খেলাপি হলে সেটি সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে।

সিটি গ্রুপ কি দেউলিয়া হওয়ার পথে?

এ মুহূর্তে সিটি গ্রুপ দেউলিয়া হয়ে গেছে—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে নেই। বরং বিপুল ঋণ, তারল্য সংকট, বড় বিনিয়োগ আটকে থাকা এবং অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তার কারণে প্রতিষ্ঠানটি গুরুতর আর্থিক চাপে রয়েছে—এটাই মূল বিষয়।

এখন সিটি গ্রুপ কত দ্রুত ঋণ পুনর্গঠন করতে পারে, সম্পদ থেকে কত অর্থ সংগ্রহ করতে পারে এবং পুঁজিবাজার থেকে প্রস্তাবিত অর্থ আদৌ কতটা সফলভাবে তুলতে পারে—তার ওপর প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।

এক নজরে

  • মোট ঋণ: প্রায় ২৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা

  • ঋণদাতা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: ৪৭টি

  • পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা: ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা

  • মুন্সীগঞ্জের ছয় প্রকল্পে বিনিয়োগ: প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা

  • প্রধান চ্যালেঞ্জ: ঋণ পরিশোধ, তারল্য সংকট ও বিনিয়োগ থেকে অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করা

Post a Comment

0 Comments